মিল্টন সেন, হুগলি: ভাঙল চাঁপদানি পুরবোর্ড। একই সঙ্গে অনিশ্চিত ডানকুনি পুরবোর্ড। পদত্যাগ করলেন পুরপ্রধান উপ-পুরপ্রধান। বুধবার সন্ধ্যায় পদত্যাগ করেন ডানকুনি পুরসভার চেয়ারপারসন, ভাইস চেয়ারম্যান-সহ আরও দুই কাউন্সিলর। এখনও পর্যন্ত মোট সাত জন তৃণমূল কাউন্সিল পদত্যাগ করলেন।
অভিযোগ, নাগরিক পরিষেবা দিতে পারছে না, ডানকুনি পুরবোর্ড। এই অভিযোগে ডানকুনি পুরসভার চেয়ারপার্সন হাসিনা শবনম, ভাইস চেয়ারপার্সন প্রকাশ রাহাকে প্রায় চার ঘন্টার বেশি সময় ঘেরাও করে রাখা হয়। অভিযোগ, আবাস যোজনা থেকে শুরু করে আমরুত প্রকল্প সবেতেই ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে ডানকুনিতে। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই পুরসভার চেয়ারপার্সন-সহ কাউন্সিলররা পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। নাগরিকরা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণ নাগরিক।
এই প্রসঙ্গে চেয়ারপার্সন হাসিনা শবনম জানিয়েছেন, পরিষেবা নিয়ে লোকজন পুরসভা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল। পদত্যাগের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তাই তিনি পদত্যাগ করেছেন। অভিযোগ স্বীকার করে ভাইস চেয়ারম্যান প্রকাশ রাহা জানিয়েছেন, নাগরিকদের পরিষেবা দেওয়া যাচ্ছিল না। তাই স্বেচ্ছায় তিনি পদত্যাগ করেছেন।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা কৃষ্ণেন্দু মিত্র বলেন, “কোনও চাপ সৃষ্টি করা হয়নি। পুরসভায় যে দুর্নীতি হয়েছে সেই বিষয়গুলো সাধারণ মানুষ সেগুলি জানতে চেয়েছেন। উত্তর দিতে না পারায়, তারা স্বইচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। সেটা লিখিত দিয়েছেন। সেই লিখিত বয়ান তাঁদের কাছে রয়েছে। পুরসভা দুর্নীতির অডিট হবে আইন মোতাবেক কাজ হবে। চেয়ারপারসন ভাইস চেয়ারম্যান কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বেনিয়ম ধরা পড়লেই পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। কেউ কাউকে জোর করেনি।”
একুশ ওয়ার্ড বিশিষ্ট ডানকুনি পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ড ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। পাশাপাশি একটি করে আসন ছিল কংগ্রেস ও নির্দলের। এই পদত্যাগের ফলে পুরসভার অচলাবস্থা আরও প্রকট হল, এমনই মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে চাপদানি পুরসভায় পদত্যাগ করলেন চেয়ারম্যান-সহ ১৯ জন তৃণমূলের কাউন্সিলর। রাজ্যে পালাবদলের পর একের পর এক পুরসভায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ক্রমাগত তৃণমূলের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান-সহ কাউন্সিলররা পদত্যাগ করে চলেছেন। পুরসভা পরিচালনা করার লোক না থাকায় প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে চন্দননগর কর্পোরেশনে। একই ছবি জেলার চুঁচুড়া বাঁশবেড়িয়া ভদ্রেশ্বরে। বুধবার চাঁপদানি পুরসভার দুই তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান সুরেশ মিশ্র-সহ বাকি ১৭ জন কাউন্সিলর তাদের পদত্যাগ পত্র জমা দেন পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে। সেই পদত্যাগ পত্র চন্দননগর মহকুমা শাসকের কাছে পাঠিয়ে দেবেন বলে জানা গিয়েছে।
১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তারক সিং ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সেলিম কুরেশি এলাকায় না থাকায় পদত্যাগ করেননি। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর দারোগা রাজভর জানিয়েছেন দলের নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে অধিকাংশ কাউন্সিলর পদত্যাগ করে ফেলায় পুরো বোর্ড কার্যত ভেঙে যায়। বাইশ ওয়ার্ডের চাঁপদানি পুরসভার ২১ জন কাউন্সিলর ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের।















