আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার একদিনের ঝটিকা সফরে মুর্শিদাবাদ জেলায় যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম মুর্শিদাবাদ জেলা সফর হতে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মুর্শিদাবাদ জেলায় পা রাখার আগেই তাঁর কাছে নিজের একরাশ 'প্রত্যাশার' কথা জানালেন বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। বৃহস্পতিবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর চৌধুরী রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তাঁর প্রত্যাশার কথা জানান।
শুক্রবার দুপুরবেলা হেলিকপ্টারে করে কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ জেলায় পৌঁছাবেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমে তিনি দলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা 'কোর কমিটি'র সদস্যদের সঙ্গে একটি বৈঠক করবেন। সেই বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী রবীন্দ্র সদনে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করবেন। ওই বৈঠক শেষে তাঁর রেজিনগরে বিজেপির 'কার্যকর্তা সম্মেলনে' অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, "আগামীকাল মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদ জেলায় আসছেন। এই জেলা তাঁর কাছে পরিচিত। তিনি এই জেলার সমস্যার কথা জানেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম মুর্শিদাবাদ জেলা সদস্যদের আগে দু-তিনটে দাবি আমি রাখতে চাই।"
তিনি বলেন, " আমি রেল দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী থাকার সময় মুর্শিদাবাদ জেলায় 'সেল' এবং রেলের যৌথ উদ্যোগে রেলের একটি কোচ তৈরির ফ্যাক্টরি করার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। রাজ্যে এখন ডবল ইঞ্জিনের সরকার। তাদের হাতে জমি, তাদের হাতে 'সেল'। মুখ্যমন্ত্রী যদি উদ্যোগ নেন তাহলে মুর্শিদাবাদ জেলায় রেলের কোচ ফ্যাক্টরি তৈরি হলে এই জেলার চেহারা, ভূগোল, অর্থনীতি সব পাল্টে যাবে। গোটা বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আমি দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং রাজ্যের অর্থমন্ত্রীকেও অবগত করেছি।"
অধীরের চৌধুরী আরও বলেন," মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী প্রথমবার জেলায় আসছেন তাই তাঁর কাছে বেশি কিছু আমি দাবি করব না। আর একটি দাবি তাঁর কাছে আমি রাখছি, বহরমপুর সংলগ্ন ভান্ডারদহ বিল সংস্কার করা। এই বিল সংস্কার করা হলে মুর্শিদাবাদ জেলার গ্রামীণ এলাকায় কৃষি বিপ্লব হতে পারে। আমি এই বিল সংস্কারের দাবি নিয়ে আন্দোলন, পথ যাত্রা করেও কিছু করতে পারিনি। ভান্ডারদহ বিল সংস্কার করা হলে জেলায় কৃষি বিপ্লব হবে, ফসল এবং মাছ উৎপাদন বাড়বে। এর পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ জলের পরিমাণও বাড়বে।"
আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অধীর চৌধুরীর রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তাঁর নিজের দলের এক কর্মীর গায়ে হাত তোলার জন্য। প্রসঙ্গত, বুধবার তৃণমূলের একটি কর্মসূচি চলার সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে এক তৃণমূল কর্মীকে চড় মারতে দেখা যায়।
এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অধীর চৌধুরী বলেন,"এতদিন উনি (পড়ুন মমতা ব্যানার্জি) ক্ষমতায় থাকলেন। এখন সব হারিয়ে ওঁর মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে আমার মনে হয়। ওঁর উচিত ওই কর্মীর কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া।"
তৃণমূল কংগ্রেস দল ক্রমেই 'রাজনৈতিক ফসিলে' পরিণত হচ্ছে বলে দাবি করে অধীর চৌধুরী বলেন," কংগ্রেস নিজের উদ্যোগে এবার একুশে জুলাই পালন করবে। কিন্তু একুশে জুলাইয়ের ঘটনার জন্য যে সমস্ত পুলিশ কর্তা, সরকারি আধিকারিক দায়ী তাঁরা সিপিএম এবং তৃণমূলের আমলে মদত পেয়েছেন। দিদি ক্ষমতায় ছিল ,কমিশন হয়েছে কিন্তু তার কোনও ফল প্রকাশ হলো না।"
বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক, সংসদদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে অধীর চৌধুরী বলেন, "দিদি যদি জানতেন এই সমস্ত 'মাল'দের দুধ কলা দিয়ে পুষছেন তাহলে হয়তো তিনি কংগ্রেসকে খতম করতেন না। কংগ্রেসকে খতম করতে গিয়ে নিজেই এখন খতম হয়ে যাচ্ছেন।"
প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ বলেন,"যাঁরা এখন 'বাগী' তৃণমূল সাজছেন তাঁরা 'দাগী' তৃণমূল ছাড়া কিছুই নন। বিন্দুমাত্র দম থাকলে তৃণমূলের সদস্য পদ ত্যাগ করে তাঁর ভোটে জিতে প্রমাণ করে দেখাক। এই সমস্ত নেতারা পুলিশ, ইডি সিবিআই -এর হাত থেকে বাঁচার জন্য 'বাগী' সেজেছেন। তাঁদের আসল উদ্দেশ্য এতদিন ধান্দাপানি করে যা কামিয়েছেন সেই ঘরের লক্ষীকে ঘরে রাখা।"
















