মিল্টন সেন: পণের দাবি৷ চলত দিনের পর দিন অত্যাচার। শেষমেশ গৃহবধূকে পুড়িয়ে খুন। অভিযোগ স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। ঘটনায় স্বামী ও শ্বশুরকে যাব্বজীবন সাজা দিল চুঁচুড়া জেলা আদালত। মৃত গৃহবধুর নাম মধুমিতা কোনাই। 

বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ দিয়েছেন চুঁচুড়া আদালতের অতিরিক্ত জেলা জজ কৌস্তব মুখোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালের ২৩শে নভেম্বর। বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হয় ত্রিবেণীর বাসিন্দা বিনীত কোনাই এবং মধুমিতা সোলাঙ্কি। মধুমিতার বাড়ির অভিযোগ, অতিরিক্ত পণের দাবীতে স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যরা গৃহবধুর উপর মানসিক ও শারিরীক অত্যাচার চালাত। 

অত্যাচারের মাত্রা ক্রমে বাড়তে থাকে। অথচ শ্বশুরবাড়ির এই অত্যাচারের বিষয়ে বাপের বাড়িতে কিছু জানাত না মধুমিতা। এদিন সরকারি আইনজীবি শঙ্কর গাঙ্গুলি জানিয়েছেন,গত ২০২২ সালের ২৭শে মে মৃতার স্বামী বিনীত কোনাই স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে দেয়। এরপর শ্বশুর বিশ্বনাথ কোনাই পুত্রবধুর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। গৃহবধুর আর্তনাদ চিৎকারে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। 

এরপর চিকিৎসার জন্য দগ্ধ গৃহবধূকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ২৮শে মে হাসপাতালে গৃহবধু তাঁর জবানবন্দিতে সমস্ত ঘটনা বিস্তারিত জানান।

অবস্থার অবনতী হওয়ায় মধুমিতা দেবীকে কলকাতার মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। গৃহবধুর বাপের বাড়ির পক্ষ থেকে মগরা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মধুমিতার প্রায় ৭৫ শতাংশ আগুনে পুড়ে যায়। ঘটনার প্রায় মাস দেড়েক পর ২০২২ সালের ১১ই জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর স্বামী, শ্বশুর সহ পরিবারের চার জনের বিরুদ্ধে ৪৯৮(বধু নির্যাতন), ৩০২(খুন) এবং ৩৪(সংগঠিত ভাবে অপরাধ) ধারায় মামালা চলে।

এই মামলায় ১২ জনের স্বাক্ষী গ্রহন করা হয়েছে। পরবর্তীকালে এই মামলা থেকে গৃহবধুর শ্বাশুড়ি ও দেওরকে রেহাই দেওয়া হয়। প্রায় চার বছর মামলা চলাকালীন গত বুধবার চুঁচুড়া আদালতের অতিরিক্ত জেলা জজ কৌস্তব মুখোপাধ্যায় স্বামী বিনীত ও শ্বশুড় বিশ্বনাথ কোনাই কে দোষী সাবস্ত্য করেন। 

বৃহস্পতিবার বিচারক মৃতার স্বামী এবং শ্বশুরকে যাব্বজীবন কারাদণ্ড সাজা দেন। একইসঙ্গে বধু নির্যাতনের ক্ষেত্রে ৫০০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিণ মাসের জেল এবং খুনের দায়ে ১০০০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। 

এদিন মৃত গৃহবধুর দাদা চিরঞ্জীব সোলাঙ্কি জানান," বিয়ের পর থেকেই অতিরিক্ত পণের দাবীতে বোনের উপর মানসিক ও শারিরীক অত্যাচার চালাত শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। শুধুমাত্র শ্বশুরবাড়ি ঘর করার জন্যই সে কিছু জানাত না। তবে সঠিক বিচার করে আদালত উপযুক্ত সাজা দিয়েছে।"