মিল্টন সেন: লক্ষ্য প্রেমিকাকে খুন। একটানা ১১ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে পৌঁছেছিলেন প্রেমিকার কাছে। পান্ডুয়ায় গৃহবধূ খুনে প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে পান্ডুয়া থানার অন্তর্গত দাঁপুড়ে গ্রামে।
গৃহবধূ ওহিদা খাতুনকে কাস্তে দিয়ে গলা কেটে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার তার প্রেমিক গোপাল ক্ষেত্রপাল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই খুন। ঘটনার তদন্তের জন্য ১০ দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়ে ধৃতকে বৃহস্পতিবার চুঁচুড়া জেলা আদালতে পাঠিয়েছে পান্ডুয়া থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাত ১১ টা নাগাদ পান্ডুয়ার দাঁপুর এলাকায় ৩৪ বছরের গৃহবধূ ওহিদা খাতুনকে কাস্তে দিয়ে গলা কেটে খুন করে তার প্রেমিক। বুধবার ওহিদার দিদি ফরিদা বিবি পান্ডুয়া থানায় গোপাল ক্ষেত্রপালের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত গোপাল গুরাপ থানা এলাকার কুলবাড়ুই গ্রামের বাসিন্দা। ফরিদার অভিযোগ, গোপালের সঙ্গে ওহিদার কয়েক বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওহিদার দুই মেয়ে, বয়স ৭ ও ৫ বছর। অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে মুখে গামছা বেঁধে দাঁপুরে পৌঁছে ওহিদার শ্বশুরবাড়িতে ঢোকে গোপাল। বাথরুমের পাশে কাস্তে দিয়ে ওহিদার গলা কেটে খুন করে সেখান থেকে পালিয়ে যায় সে।
তদন্তে নেমে বুধবার রাতে পান্ডুয়ার হরাল হাটতলা সংলগ্ন এলাকা থেকে অভিযুক্ত গোপাল ক্ষেত্রপালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৈঁচি থেকে ট্রেন ধরে পালানোর ছক কষেছিল ছিল গোপাল। তার আগেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
জেরায় ধৃত গোপাল খুনের দায় স্বীকার করে নেয়। পুলিশের কাছে গোপাল স্বীকার করেছে, ওহিদার মেয়েরা বড় হওয়ার কারণে তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। মঙ্গলবার রাতে গুরাপের কুলবাড়ুই থেকে কাস্তে নিয়ে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে দাঁপুরে ওহিদার শ্বশুরবাড়িতে সাইকেল চালিয়ে পৌঁছয়। সেখানেই সে খুন করে ওহিদাকে।
সেই রাতেই পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। ধৃত গোপাল ক্ষেত্রপালকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে তদন্ত চলবে পুলিশ।
ছবি: পার্থ রাহা।















