সাপ কামড়ালেই কি মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বের হয়! সর্পবিশেষজ্ঞের মত শুনে চমকে যাবেন
নিজস্ব সংবাদদাতা
২ জুলাই ২০২৬ ১৯ : ৫৬
শেয়ার করুন
1
12
সাপের কামড় নিয়ে আমাদের সমাজে অনেক ধারণা প্রচলিত রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল, সাপ কামড়ানোর পর সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির মুখ দিয়ে সাদা গ্যাঁজলা বা ফেনা বের হয়। বাংলা, হিন্দি বা দক্ষিণী, বহু সিনেমাতেই এই দৃশ্য দেখা যায়। ফলে অনেকেই মনে করেন, মুখ দিয়ে ফেনা না বের হলে বুঝি সাপের বিষ শরীরে ছড়ায়নি। এবিষয়ে কী বলছে বিজ্ঞান? জেনে নেওয়া যাক-
2
12
সর্পবিশেষজ্ঞ বিশাল সাঁতরা জানিয়েছেন, নিউরোটক্সিক বিষযুক্ত সাপ কামড়ালে ডায়াফ্রাম পেশিগুলো প্যারালাইসড হতে শুরু করে, ফুসফুস কাজ করা বন্ধ করে, তখন মানুষ খুব জোরে নিঃশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করে। সেই সময় মুখের পেশিগুলো প্রায় প্যারালাইসড হয়ে যায়। তাই মুখের ভিতরের লালা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাও চলে যায়।
3
12
যেমন ধরুন, আমরা যখন ঘুমাই তখন লালা শ্বাসনালীতে পৌঁছয় না। আসলে অবচেতনভাবে আমাদের পেশিগুলো এমনভাবে গঠিত যে সেগুলো প্রতিরোধ করবে। নিউরোটক্সিক বিষের ক্ষেত্রে চোখের পাতা যে পেশি নিয়ন্ত্রণ করে তার থেকে পক্ষাঘাত নিচের দিকে নামে। ডায়াফ্রাম পর্যন্ত যখন পৌঁছয় তখন মুখের পেশির নিয়ন্ত্রণ আর থাকে না। তখনই গ্যাঁজলা তৈরি হয়। কিন্তু এর সঙ্গে বিষের কোনও রাসায়নিক সম্পর্ক নেই।
4
12
গ্যাঁজলা পুরোপুরি প্যারালাইসিসের কারণে হয়। অর্থাৎ সেই সময় শারীরিক পরিস্থিতি এমন হয় যে মানুষ বাঁচার চেষ্টা করছে, শ্বাসনালীতে তরল ঢুকে যাচ্ছে। তখনই মুখের ভিতরের লালা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়না। এক্ষেত্রে সাপের কামড় ছাড়াও ফুসফুসকে অকেজো করে এবং মুখের পেশিকেও অকেজো করে দেয়, এমন প্যারালাইসিসে এই লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
5
12
তবে কি পর্দায় দেখানো সাপের কামড়ের পর মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বের হওয়া পুরোপুরি মিথ? বিশাল সাঁতরার মতে, আসলে অনেকেই দেখেছেন যে সাপের কামড়ে মারা যাওয়ার সময় এমন হয়। সেখান থেকেই এই ধারণা এসেছে। তবে সিনেমায় যেভাবে কয়েক সেকেন্ডে বিষয়টা দেখানো হয়, তা ঠিক নয়। এটা হতে সময় লাগে।
6
12
ঠিক কোন বিষয়ের ওপর এটি নির্ভর করে? যে বিষ নিউরোটক্সিক অর্থাৎ স্নায়ুতন্ত্রকে অকেজো করে এবং কতটা বিষ প্রয়োগ হয়েছে এবং আক্রান্তের শারীরিক পরিস্থিতির ওপর অর্থাৎ তাঁর বিষের সঙ্গে যুচতে পারার ক্ষমতা কতটা, বিষটা কতটা ডেলিভার হয়েছে, শরীরে কতটা ছড়িয়ে পড়েছে-এই ধরনের অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
7
12
সাপ কামড়ানোর পর মুখ দিয়ে সাদা ফেনা বের হওয়ার আগে বেশ কিছু লক্ষণ দেখা যায়। সেগুলো নজর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত সাপ কামড়ালে প্রথমে কামড়ের জায়গায় ব্যথা, ফোলা, জ্বালাপোড়া বা রক্তপাত হতে পারে। কিছু সাপের বিষ রক্তকে প্রভাবিত করে, যার ফলে রক্ত জমাট বাঁধতে সমস্যা হয়।
8
12
আবার কিছু সাপের বিষ স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে। তখন চোখের পাতা ঝুলে পড়া, ঝাপসা দেখা, কথা বলতে অসুবিধা, গিলতে সমস্যা, শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
9
12
অনেক সময় বিষধর সাপ কামড়ানোর পর প্রথম দিকে তেমন কোনও লক্ষণও দেখা যায় না। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে পারে। তাই কোনও সাপ কামড়ালে অপেক্ষা না করে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
10
12
সাপ কামড়ালে কী করবেন? আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্ত রাখুন। ভয় পেলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, ফলে বিষ দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কামড়ানো হাত বা পা যতটা সম্ভব স্থির রাখুন। আংটি, বালা, ঘড়ি বা টাইট পোশাক খুলে দিন, কারণ পরে ওই অংশ ফুলে যেতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রয়োজনে চিকিৎসকেরা অ্যান্টিভেনম দেবেন।
11
12
কী করবেন না? ক্ষত কেটে বিষ বের করার চেষ্টা করবেন না। মুখ দিয়ে বিষ চুষে বের করবেন না। শক্ত করে দড়ি বা কাপড় বেঁধে দেবেন না। ওঝা, ঝাড়ফুঁক বা ঘরোয়া চিকিৎসার উপর নির্ভর করবেন না। আক্রান্ত ব্যক্তিকে অযথা হাঁটাচলা করাবেন না।
12
12
মনে রাখবেন, সাপের কামড় একটি চিকিৎসাগত জরুরি অবস্থা। সিনেমার দৃশ্যের সঙ্গে বাস্তবের অনেক পার্থক্য রয়েছে। তাই মুখ দিয়ে সাদা গ্যাঁজলা বের হচ্ছে কিনা, তা না দেখে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে পৌঁছনোই জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর উপায়।