আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআরের শুনানি ঘিরে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনার আবহ। ফর্ম–৭ জমা দেওয়া এবং এসআইআরের শুনানিকে কেন্দ্র করে সোমবার তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ, কোথাও রাস্তা অবরোধে অশান্তির, কোথাও অগ্নিসংযোগের ছবি সামনে এসেছে।
রাজ্যের একাধিক জেলা এসআইআরের শুনানির মাঝে উত্তাল হয়ে উঠলেও এই পরিস্থিতির মধ্যেই পূর্ব বর্ধমানের কালনার পূর্বস্থলীতে দেখা গেল শাসক দলের এক ভিন্ন, মানবিক ছবি।
নির্বাচন কমিশনের তরফে এসআইআরের শুনানির নোটিশ পেয়ে সোমবার ভোর থেকেই পূর্বস্থলীর শ্রীরামপুর বিডিও অফিসে ভিড় জমাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ।
সকাল সাতটা, কেউ কেউ তারও আগে থেকে হিয়ারিংয়ের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বেলা গড়িয়ে গেলেও অনেকের শুনানি শেষ হয়নি।
জল, খাবার ছাড়া লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন অনেকেই। এই অবস্থায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট রক্ষা শিবিরের উদ্যোগে শুনানিতে আসা সাধারণ মানুষের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
সোমবার শ্রীরামপুর বিডিও অফিস চত্বরে নিজের হাতে সেই খাবার পরিবেশন করতে দেখা যায় এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথকে।
মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, ‘এসআইআরের নামে যেভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে, তার আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বহু মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। মানবিকতার জায়গা থেকেই তাঁদের দুপুরের আহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, যতদিন শুনানি চলবে, ততদিন প্রতিদিনই এই খাবারের ব্যবস্থা রাখা হবে। দীর্ঘ অপেক্ষার মাঝে দুপুরের খাবার পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শুনানিতে আসা সাধারণ মানুষও।
তাঁদের কথায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর শাসক দলের এই উদ্যোগ কিছুটা হলেও ক্লান্তি ও ভোগান্তি কমিয়েছে। মেনুতে ছিল খিচুড়ি, আলুর দম। দীর্ঘ ক্লান্তির পর তৃপ্তি পেয়েছেন সাধারণ মানুষও।
রাজ্যজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে যখন রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও অশান্তির ছবি সামনে আসছে, তখন শাসক দলের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন সাধারণ মানুষ।
উল্লেখ্য, ফর্ম ৭ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। এসআইআর -এর নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে সোমবার লালবাগ মহকুমা অফিস চত্বরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা।
ঠিক সেই সময়ে মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশংকর ঘোষের নেতৃত্বে স্থানীয় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা মহকুমা শাসকের কাছে প্রায় ২৭ হাজার ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার জন্য উপস্থিত হয়ে যান।
জানা গিয়েছে, সেই সময় দু'পক্ষের মধ্যে ব্যাপক বাক-বিতণ্ডা বেঁধে যায়। অভিযোগ উঠেছে বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সৌমেন মন্ডলের গাড়িতে পুলিশের সামনেই ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। সেই সময় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের হাত থেকে ফর্ম -৭ ছিনিয়ে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
ফর্ম -৭ জমা করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয় বহরমপুরে মহকুমা শাসকের অফিসেও। সেখানে বিজেপি কর্মীরা প্রায় ৯০ হাজার ফর্ম-৭ নিয়ে পৌঁছে যান।
অন্যদিকে ফর্ম ৭-কে কেন্দ্র করে আসানসোল দক্ষিণের মহকুমা শাসকের অফিসেও প্রবল উত্তেজনা ছড়াল। হাতাহাতিতে জড়ালেন তৃণমূল-বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা।
এর পাশাপাশি এদিন বিক্ষোভের মুখে পড়েন বনগাঁ উত্তর বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া। রীতিমতো পুলিশ প্রহরায় তাঁকে বনগাঁ মহকুমা শাসকের অফিস থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।
