ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্না দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। শনিবার দ্বিতীয় দিন। আর এদিনই চমক। রাজ্য বাজেটে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য যুবসাথী প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। ঠিক ছিল ১ এপ্রিল থেকে প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে বেকার ভাতার টাকা। কিন্তু শনিবার চমক দিলেন মমতা। এদিন তাঁর ঘোষণা, শনিবার থেকেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে যুবসাথীর টাকা। এই ঘোষণায় খুশি বাংলার বেকার যুবক-যুবতীরা।
এই বছর রাজ্য বাজেটে যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। প্রথমে ঘোষণা করা হয়েছিল আগস্ট মাস থেকে এই টাকা দেওয়া হবে। পরে নবান্ন থেকে মমতা ঘোষণা করেন যে এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে টাকা দেওয়া শুরু হবে। ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের অন্য কোনও জনমুখী প্রকল্পের আওতায় যদি কেউ সুবিধা পেয়ে থাকেন, তাঁরা টাকা পাবেন না। পাঁচ বছর এই টাকা দেওয়া হবে। তারপরেও যদি কেউ বেকার থাকেন তাহলে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপরেই ধর্নার দ্বিতীয় দিনে আচমকা মমতার ঘোষণা, ৭ মার্চ শনিবার থেকেই আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা।
এখানেই থামেননি মমতা। শনিবার থেকে দেশজুড়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গ্যাসের দাম আবার বাড়ানো হয়েছে। এখন আপনাকে ২১ দিন আগে গ্যাস বুক করতে হবে, তাহলে আপনার বাড়িতে গ্যাস শেষ হয়ে গেলে ২১ দিন আপনি কী করবেন? আপনি কী খাবেন? আপনি কি মানুষের জন্য খাবারের হোম ডেলিভারি দেবেন? এমনকি কেরোসিনের কোটাও কমানো হয়েছে। আপনি প্রতিদিন জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছেন। এই কারণেই আপনি ভোট মুছে ফেলতে চান? বাংলা ভাঙতে চান? অন্যরা হয়তো আপনাকে ভয় পাচ্ছে, আমরা নই। আমরা আপনার মুখোশ খুলে দেব।”
তিনি জানিয়েছেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ইস্যুতে রবিবার ফের পথে নামবেন। কালো শাড়ি পরে হাতা, খুন্তি হাতে মহিলাদের মিছিলে শামিল হওয়ার আর্জি জানান মমতা।
আচমকা পদত্যাগ করেছেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। তাঁর পদত্যাগ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “রাজ্যপালকে কেন সরানো হয়েছে, সব জানি। এখন যাঁকে এনেছে, বিজেপির প্যারেড করা ক্যাডার। বাংলা অন্য। তামিলনাড়ুতে প্রতিদিন বেচারারা ফেস করেছে। বাংলায় ভোটের একমাস আগে কেন রাজ্যপাল বদলে দিলেন। কাউকে কমপ্লিট করতে দিচ্ছেন না। ধনখড়কেও করতে দেননি। ধনখড় কী করেননি? এখান থেকে নিয়ে গেলেন উপরাষ্ট্রপতি করে। তার পরে নজরবন্দি। ভোটবন্দির মতো।’’
মমতা আরও বলেন, ‘‘আনন্দবাবুকেও এখানে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল। কারণটা যদিও আমি জানি। কিন্তু আমি বলব না। তাঁকে থ্রেট করা হয়েছে, এটুকু আমি বলব। অনেকে চায় না, রাজভবন বিজেপির পার্টি অফিস হোক। ওখানে বিজেপির টাকা বিলি হোক। সবই করে। এরা কি নৈতিকতা মানে!’’
এরপরেই বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি সাবধান। ভোট কেটে বাংলাকে করা যাবে না বিভাজন। বাংলা লড়াই করছে, করবে, করতে জানে। বেশি কিছু করলে তোমার দিল্লি সরকার ফেলে দেব, যাও।”
