আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবারের ধর্নামঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কবীর সুমন, কবি জয় গোস্বামীর মতো ব্যক্তিত্ব। মঞ্চে তাঁদের দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মমতা। তিনি বলেন, ওঁরা কষ্ট করে এসেছেন। কবীর সুমন, জয়দা যে এত কষ্ট করে এসেছেন, আমার ওঁদের দেখে নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর আন্দোলনের কথা মনে পড়ছে। তখনও ওঁরা ছিলেন। এরপর নিজের বক্তৃতায় প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন কবি। তিনি বলেন, যতদিন বাঁচবেন মমতার পাশেই থাকবেন। এদিন ধর্নামঞ্চে রাজনীতির ময়দান ছাড়াও নানা ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা হাজির হয়েছিলেন।
শুক্রবার, সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি, তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থী আইনজীবি মেনকা গুরুস্বামী, কবীর সুমনের পরে বক্তব্য রাখেন জয়। মমতার পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি কয়েকটা পুরনো কথা বলব। ওঁদের কথা বলার পরে আমার কথা নির্জীব। আমি এখানে কেন এসেছি? সেটা ব্যক্তিগত। আমার তখন তিনটে সার্জারি একসঙ্গে হয়েছে। সেই সময়ে আমার বাড়ি ফোন এল যে আমার ভোটাধিকারের অধিকার প্রমাণ দিতে হবে। সে সব কথা আমার স্ত্রী-কন্যা আমায় জানাননি। তাঁরা ব্যবস্থা করেছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি মমতার ডাকে গিয়েছিলাম। আমি সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ে একজন আবেদনকারী। সেই আবেদন যে আমি করতে পারি, এই শরীর নিয়ে যদি করতে পারি, সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন মমতা। এই এসআইআরের জন্য কত মানুষ মারা যাচ্ছেন। এর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ লড়াই করতে পারেন মমতা।’’
নন্দীগ্রাম আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করেন কবি জয় গোস্বামী। তাঁর দাবি, হাঁসখালি ধর্ষণকাণ্ডে ন্যায়বিচারের নেপথ্যেও মুখ্যমন্ত্রী। আরও একটি ঘটনা বলেন কবি জয় গোস্বামী। তিনি জানান, মহাশ্বেতা দেবীর বাড়িতে একদিন ছিলেন তাঁরা। রাত্রি ১১টা ১৫ মিনিট তখন। মমতা মুড়ি-চানাচুর খাচ্ছিলেন। জয়ের কথায়, ‘‘আমি বললাম, ‘বাড়ি যাবেন তো মমতা?’ উনি বললেন, ‘নন্দীগ্রাম যাব।’ আমি বললাম, ‘এখন?’ উনি মুড়ি খেতে খেতে শান্ত গলায় বললেন, ‘কাজ করা ছাড়া আর আমাদের কী করার আছে জয়দা?’ মমতার প্রশংসা করে কবি বলেন, জন্মাবধি এমন মুখ্যমন্ত্রী দেখিনি। তাঁর সংযোজন, ‘‘মৃত্যু পর্যন্ত মমতা যেখানে থাকবেন, আমি থাকব। তাঁর পাশেই আমি থাকব।’’
এরপরেই জয় গোস্বামীকে এসআইআর শুনানিতে ডাকার প্রসঙ্গ তোলেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, এসআইআরের নামে হেনস্থা করা হয়েছে কবি জয় গোস্বামীকে। তিনি বলেন, ‘‘এই এসআইআরে উনিও ভিক্টিম। ওঁকেও হেয়ারিংয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। এটা ইনসাল্ট ছাড়া আর কিছু নয়। হিউমিলিয়েশন ছাড়া আর কিছু নয়।’’
