আজকাল ওয়েবডেস্ক: কয়লা পাচার মামলায় ইতিমধ্যে দুজন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। ধৃতদের নাম কিরণ খাঁ এবং চিন্ময় মণ্ডল। সোমবার গভীর রাতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইডি জানিয়েছে তদন্তে অসহযোগিতা এবং বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি থাকায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের সক্রিয় ভূমিকাতে দেখা গিয়েছে ইডিকে। এই গ্রেপ্তারির পর শুরু হয়েছে নানা ধরণের আলোচনা। জানা গিয়েছে ধৃত চিন্ময় মণ্ডল কয়লা পাচার মামলায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত লালা ঘনিষ্ঠ। অপরদিকে কিরণ খাঁ পরবর্তীকালে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত কয়লা ব্যবসায়ী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
এই গ্রেপ্তারির পরই মুখ খুলেছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। নিজের সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, কয়লা পাচার মামলায় যে দুজন ইডির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের বয়ানে বিজেপির এক শীর্ষ নেতার নাম এসেছে। মাসে বিপুল টাকা যেন তাঁর কাছে। ইডি তাঁর বয়ান রেকর্ডের জন্য নোটিস জারির পথে। খবর পেয়ে তিনি গতকাল দিল্লি গিয়েছিলেন সামাল দিতে। এখনও ইডি অফিসে কোনও রক্ষাকবচের বার্তা আসেনি। প্রশ্ন হল, বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে ইডি ব্যবস্থা নেবে? নাকি যেকোনও মুহূর্তে দিল্লি থেকেই রাজনৈতিক রক্ষাকবচ এসে যাবে।
প্রসঙ্গত, সোমবারই ইডি দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে ধৃতদের। ইডির দাবি ছিল এই জেরা চলাকালীন তাদের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপরই তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। কয়লা পাচারের টাকা কার হাতে গিয়েছে এবং এরা কীভাবে কাজ করত সেটাই এখন প্রাইম টার্গেট ইডির কাছে।
চলতি মাসের শুরুতেই আসানসোলের রানীগঞ্জ, জামুরিয়ায় তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি। সেখানে একাধিক কয়লা ব্যবসায়ীর বাড়িতে চলে অভিযান। জামুরিয়ার এক কয়লা ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা নগদ।
এর আগেও কয়লা পাচার মামলায় ইডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এরপরই নিজেদের তদন্তের গতি বাড়ায় ইডি। বিগত কয়েকদিনে একাধিক ব্যবাসীকে জেরা করা হয়েছে। তারপরই এই দুজনকে গ্রেপ্তারি অতি গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে ইডি আধিকারিকরা। এবার ইডি এই মামলার আরও গভীরে প্রবেশ করতে চান। তার মধ্যে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের এই পোস্ট যে বাড়তি ইন্ধন দেবে সেটাই স্বাভাবিক। যদি তার কথামতো এখানে বিজেপির শীর্ষনেতার নাম থাকে তাহলে এবার ইডি কোন পথে যাবে সেটাই দেখার। পাশাপাশি বিজেপির কেন্দ্র এবং রাজ্য নেতৃত্ব এই বিষয়টি কীভাবে সামলান সেটাও সকলের নজরে থাকবে।
