আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের মুখেই উত্তাল ভাঙড়। তৃণমূল কর্মীকে লক্ষ্য করে বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে খাস ভাঙড়ে। অভিযোগ, ভাঙড়ে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের ভাইকে লক্ষ্য করে বোমা মারা হয়েছে। অভিযোগের তীর আইএসএফ-এর দিকে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে আইএসএফ।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে। ভাঙড় ২নম্বর ব্লকের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের দক্ষিণ বামুনিয়া এলাকায় এই বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, এলাকার তৃণমূল কর্মী তৃণমূল, পঞ্চায়েত সদস্য ইব্রাহিম মোল্লার ভাই কামাল পুর্কায়েতকে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা পরপর দুটি বোমা ছোড়ে। সেই ঘটনায় কামাল আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।
আহত কামাল পুর্কায়েত ঘটনাপ্রসঙ্গে জানিয়েছেন, সোমবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ কচুয়া এলাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। দক্ষিণ বামুনিয়া এলাকায় পৌঁছতেই তাঁকে লক্ষ্য করে দুটি বোমা ছোড়া হয়। এই ঘটনায় তিনি আহত হন।
তৃণমূল কর্মী নিজে ঘটনায় আঙুল তুলেছেন আইএসএফ-এর দিকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। উত্তর কাশিপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই একাধিক বিষয়কে কেন্দ্র করে ভাঙড়ের রাজনীতির পারদ চড়ছিল। সোমবার রাতে সেই উত্তেজনাই অন্য মাত্রা নেয় বলে দাবি স্থানীয়দের।
অন্যদিকে, রাজ্য জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এসআইআর শুনানিকে কেন্দ্র করে। সোমবারের পর মঙ্গলবারেও এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠল একাধিক জেলা। মঙ্গলবার সকাল থেকে বাসন্তী, ঢোলাহাট, বারাসতের বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার স্থানীয় বাসিন্দারা বাসন্তী ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন। ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান তুলে দীর্ঘক্ষণ রাস্তা আটকে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। এর জেরে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয় এবং চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় নিত্যযাত্রীদের। বাসন্তী বিডিও অফিস চত্বরে তৈরি করা এসআইআরের শুনানি কেন্দ্রেও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ সামনে এসেছে।
টেবিল-চেয়ার ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাসন্তী থানার পুলিশ ও অতিরিক্ত বাহিনী।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, এসআইআরের শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট নিয়ম বা স্পষ্ট নির্দেশিকা ছাড়াই একাধিকবার হাজিরা দিতে বলা হচ্ছে।
ফলে দিনমজুর, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ কাজ ফেলে শুনানিতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাঁদের রোজগারে।
অনেকের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনও স্পষ্ট সমাধান মিলছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া থাকলেও তা যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ না হয়।
