আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ রোগভোগের পর মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মৃত্যু হল মুর্শিদাবাদের ডোমকলের তৃণমূল বিধায়ক জাফিকুল ইসলামের। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন,'জাফিকুলের মৃত্যুতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হল তৃণমূল কংগ্রেস পরিবারে। আমি, আমার একজন ভাই- বন্ধু এবং রাজনৈতিক সহকর্মীকে হারালাম।' 

তিনি বলেন, 'জাফিকুল কলকাতার হাসপাতালে লিভারের কিছু সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। আমরা আশা করেছিলাম সে সুস্থ হয়ে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসবে। আমরা একসঙ্গে রাজনীতির লড়াই করব। কিন্তু আজ আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেল  জাফিকুল। আমরা তাঁর পরিবারের সঙ্গে সব সময় রয়েছি।' ১৯৭৬ সালে ডোমকলের গোবিন্দপুরে জন্ম জাফিকুলের। ডোমকলের বি টি হাই স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত তাঁর পড়াশোনা। এরপর দূরশিক্ষায় একাধিক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। অত্যন্ত মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে জাফিকুল পড়াশোনা শেষ করে বিভিন্ন রকমের ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন।

আরও পড়ুন: মিসপাসের বন্যা, ফিনিশিংয়ের অভাবে এল না জয়, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র ভারতের

পরবর্তীকালে ডোমকলে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছিল তাঁর হাত ধরে। তবে গত কয়েক মাস ধরেই শরীর ভালো যাচ্ছিল না জাফিকুলের। ডোমকলের বাড়িতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত ২৭ জুলাই তাঁকে 'গ্রিন করিডর' করে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার মৃত্যু হয় তৃণমূল বিধায়কের। জাফিকুলের স্ত্রী ছাড়াও তিন নাবালিকা কন্যা রয়েছে। ডোমকলের তৃণমূল বিধায়ক হওয়া ছাড়াও তিনি  দীর্ঘ সময় ডোমকল পুরসভার চেয়ারম্যান এবং প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছেন।  তাঁর মৃত্যুতে  শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা জেলা জুড়ে। শুক্রবার জাফিকুল ইসলামের দেহ মুর্শিদাবাদে নিয়ে আসা হবে বলে জানা গিয়েছে।

জাফিকুলের অকাল মৃত্যুতে শোকাহত ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক  হুমায়ুন কবীর বলেন, 'জাফিকুল খুব ভালো মনের মানুষ ছিল। তবে গত প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরেই ও অসুস্থ থাকছিল। আমি শুনেছি ওর রক্তের কোনও জটিল রোগও ধরা পড়েছিল। যদিও সেই বিষয় নিয়ে কাউকে খুব একটা কিছু বলতো না।'
 হুমায়ূন আরও বলেন, 'শারীরিক অসুস্থতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর জাফিকুল মক্কায় 'ওমরাহ হজ' করতে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে আসার পর থেকেই জাফিকুল চিকিৎসার মধ্যে ছিল।'

তিনি জানান, 'কলকাতা হাসপাতালে বেশ কিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর কিছুদিনের জন্য হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে কলকাতার বাড়িতেও ফিরে এসেছিল জাফিকুল। কিন্তু তারপর আবারও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। জাফিকুলের এই মৃত্যু আমাদের সকলের জন্য অপূরণীয় এক ক্ষতি।' ডোমকল টাউন তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি কামরুজ্জামান মন্ডল বলেন,' ডোমকল বরাবরই বামপন্থীদের 'গড়' হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জাফিকুল ইসলাম রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানকে হারিয়ে প্রথমবার তৃণমূল কংগ্রেসের  বিধায়ক হন। তাঁর হাত ধরে ডোমকল  জুড়ে উন্নয়নমূলক অনেক কাজ হয়েছে। তাঁর অকাল প্রয়াণ আমাদের সকলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।'