আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের মুখে, আরও বেশি করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। দিন যত এগোচ্ছে তৎপরতা ততই নজরে পড়ার মতো। এর আগেই, রাজ্যের আইনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ৩০টি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক একটি ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করেছে বিজেপি। এবার ভোটের মুখে, মানুষের মন বুঝতে বড় কৌশল পদ্মশিবিরের। শনিবারেই প্রকাশ্যে এল প্রচার কৌশল।

ভারতীয় জনতা পার্টি, শনিবার পশ্চিমবঙ্গে একটি রাজ্যব্যাপী প্রচার কর্মসূচি শুরু করেছে।  লক্ষ্য ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য জনমুখী নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করা। এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে 'বিকশিত পশ্চিম বঙ্গ সংকল্প পত্র- পরমর্শ সংগ্রহ অভিযান'। ওই সংগ্রহ অভিযান শেষে, সাধারণের কণ্ঠস্বর দিয়েই তৈরি হবে 'জনতা কা ম্যানিফেস্টো' অর্থাৎ জনতার ইশতেহার, গেরুয়া শিবিরের পরিকল্পনা তেমনটাই।

মানুষের কাছে পৌঁছতে, এই জনতার ইশতেহার তৈরি করতে ভোটমুখী বাংলায় বিজেপি ভাবনাচিন্তা করেই এই রাজনৈতিক ব্লু প্রিন্ট তৈরি করেছে, তা বলাই বাহুল্য। কারণ, গেরুয়া শিবিরের নেতাদের দাবি, এই ভোটে তারা এমন কোনও ইশতেহার তৈরি করবেন না, যা পড়ে মনে হয়, নেতারা কার্যালয়ে বসে, পয়েন্ট ধরে তৈরি করেছেন স্রেফ। বরং সরাসরি জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলে, এই ইশতেহারের তালিকা তৈরি করতে চাইছে বিজেপি। 

কীভাবে এই কর্মসূচি হবে রাজ্যব্যাপী? তার রুটম্যাপ তৈরি হয়েছে ইতিমধ্যেই। সিনিয়র নেতা এবং দলীয় কর্মীরা জেলা, শহর এবং গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে পরামর্শ, প্রতিক্রিয়া এবং অভিযোগ সংগ্রহ করবেন। রাজ্যের শহর, জেলা এবং টাউন হল, রাজ্যজুড়ে সভায় সভায় রাখা থাকবে 'আকাঙ্ক্ষা সংগ্রহ বাক্স'। সাধারণ মানুষেরা সেখানেই নিজেদের মতামত, পরামর্শ কিংবা অভিযোগের বিষয়টি লিখিত আকারে জমা দেবেন।

শুধু এটুকুই নয়। জেলা থেকে শহর, সব জায়গার সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছতে বিজেপি এবার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলিকেও ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে। বক্সে চিঠি ফেলা ছাড়াও, কেউ পরামর্শ দিতে চাইলেই, ইমেল করে, কিউ আর কড স্ক্যান করে কিংবে সোশ্যাল মিডিয়ায় হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে কিংবা নির্দিষ্ট নম্বরে(৯৭২৭ ২৯৪ ২৯৪) ডায়েল করে বলতে পারবেন। তাছাড়া ভবিষ্যতে ঠিক কেমন রাজ্য চান রাজ্যের বাসিন্দারা? শুনতে বিজেপির নেতা কর্মীরা বুথে বুথে, ঘরে ঘরে ঘুরবেনও, দলীয় সূত্রের খবর তেমনটাই।

তবে গেরুয়া শিবির, ভোটমুখী বাংলায় জোর দিচ্ছে তিনটি বিষয়ের উপর। চাকরি, স্বচ্ছতা এবং শাসনব্যবস্থা। বিজেপি সূত্রে খবর, তাঁদের এই প্রচার কৌশল মূলত রাজ্যের কর্মসংস্থানের সুযোগ, দুর্নীতি এবং শ্রমিকদের অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একগুচ্ছ বিষয়কে সামনে রেখে, সেগুলি মোকাবিলার লক্ষ্যে। 

এর আগে, শাসক দলের বিরুদ্ধে ৩০টি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক একটি ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করেছে পদ্মশিবির।  ‘চার্জশিট’-এ এলাকাভিত্তিক অভিযোগ এবং দুর্নীতি, প্রশাসনিক ত্রুটি ও নাগরিক উদ্বেগ সম্পর্কিত নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। বিজেপির দাবি, তারা সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই বিষয়গুলি সামনে আনছে। বিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ৬৫টি ‘চার্জশিট’ প্রকাশিত হয়েছে এবং ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করা হবে। তার মাঝেই সামনে এল নয়া রাজনৈতিক কৌশলও।