আজকাল ওয়েবডেস্ক: বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা কে? বাংলার মানুষ এক কথায় উত্তর দেবেন অনুব্রত মণ্ডল। তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা বীরভূম জেলার কোর কমিটির আহ্বায়কের চরিত্র বেশ বর্ণময় ও রঙিন।
আর সেই কারণেই তিনি যাই করেন নিমেষে ভাইরাল হয়ে যায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে জেলার বিভিন্ন ব্লকে জোর কদমে তিনি কোমর বেঁধে দলের প্রচারে নেমে পড়েছেন।
নলহাটি, খয়রাশোল, দুবরাজপুরের পর বৃহস্পতিবার তাঁর ইলামবাজারে জনসভা ছিল। এদিনও ছিলেন স্বমহিমায়। এসআইআর-এর কারণে তৃণমূলের কি ভোট বাড়বে? প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন ''মেরা জবান মেরা শাসন হ্যায়"।
আবার মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন ঈশ্বর- আল্লাহ সুখ ও দুঃখ দুই দেয়, কিন্তু মা-বাবা শুধুমাত্র সুখই দেয়। তাই মা বাবাকে পুজো করুন। অর্থাৎ এদিনও জনসভার পর তাঁর এই সংলাপই এখন চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রসঙ্গত, সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। সেই লক্ষ্যে বীরভূম জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব শীত কমতেই জোড় প্রচার শুরু করেছেন জেলার বিভিন্ন ব্লকে।
প্রতিদিন দুপুর তিনটে থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হওয়া জনসভায় 'লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট' অর্থাৎ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অনুব্রত। কারণ, তৃণমূলের ধারণা এবারের নির্বাচনে বিজেপি কৌশল অবলম্বন করে ভোটে বাংলায় ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করে যাবে।

আর সেই চেষ্টা প্রতিহত করতে তৃণমূলের হাতিয়ার উন্নয়ন ও জনসংযোগ। তাই ঠান্ডা এবং কাশিতে জর্জরিত হলেও অনুব্রতকে আটকায় কে!
কারণ তিনি জানেন, জেলার তৃণমূল কর্মী- সমর্থকদের ইউএসপি তিনিই। তাঁকে একবার দেখলেই কর্মী-সমর্থকরা উজ্জীবিত হন। সেজন্য সব সভাতেই নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছে যাচ্ছেন তিনি।
আর তাঁর বক্তব্য শুরু হতেই জনসভায় কার্যত পিন পড়লেও শব্দ শোনা যায়। শুধু গমগম করে তাঁর আওয়াজ। এদিনও যার অন্যথা হয়নি।
ইলামবাজারে রাইস মিল মাঠে আয়োজিত এদিনের জনসভায় অনুব্রত মণ্ডল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ, প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান প্রলয় নায়েক-সহ ইলামবাজারের স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা কোর কমিটির সদস্য রবি মূর্মু, ফজলুর রহমান ও দুলাল রায়-সহ অন্যান্যরা।
এদিন মঞ্চে শুরু থেকেই তিনি ছিলেন অন্য মুডে। বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, 'ঈশ্বর-আল্লাহ সুখ ও দুঃখ দুই দেয়। কিন্তু মা বাবা শুধুমাত্র সুখই দেয়। তাই মা-বাবাকে পুজো করুন। এসআইআর-এর নামে বিজেপি তুমি যতই ভয় দেখাও, পারবে না। ইলামবাজারে ৫০ থেকে ৬০ হাজার ভোটে আমরা জিতব। তোমরা অন্য কোন রাজ্যে এসআইআর করছ না, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে করছ, কারণ তোমাদের লক্ষ্য মমতা ব্যানার্জিকে হারানো। কিন্তু তোমরা পারবে না। কারণ, মানুষ আমাদের পাশে আছে।' এরপর জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী না হলে আমাদের কপালে অন্ধকার আছে।'
এরপর একটি সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, 'গত বিধানসভা নির্বাচনে ইলামবাজারে ৫৯ হাজার ভোটে 'লিড' ছিল। মানুষ তো কম চায় না। বেশি চায়। ৫৯ হাজার যখন ছিল, এক হাজার তো বাড়তেই পারে। ভাল তরকারি, মাংসের ঝোল হলে মানুষ তো একটু বেশি ভাত খায়, তাই না? সেদিন কি বাড়ির লোক চাল একটু বেশি নেয় না?' প্রশ্ন ছুড়ে দেন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে।
এরপর এসআইআর-এর জন্য বিজেপির হয়রানির কারণে তৃণমূলের ভোট কি বাড়বে প্রশ্নের উত্তরে তিনি শুধু সংলাপ আওড়ান– মেরা জবান মেরা শাসন হ্যায়।
