আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাঁচ দিন পরে ধর্না তুলে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ধর্না তুলে নেওয়ার পরেই তিনি প্রথম দেখা করতে গিয়েছেন বিদায়ী রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে। সাক্ষাৎ সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা। সেখানে তিনি বলেন, “তাঁর সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। পাঁচ বছরের টার্ম শেষ করতে দেওয়া হয়নি।”

এদিন মমতা বলেন, “যেহেতু উনি (সি ভি আনন্দ বোস) কাল চলে যাচ্ছেন। ওনার সঙ্গে একসঙ্গে অনেকদিন কাজ করেছি। ওনার পরিবারকে আমি চিনি। বাংলার শিষ্টাচার হিসেবে আমি তাঁর মঙ্গল কামনা করি। তাঁর প্রতি যে অবিচার হয়েছে, অন্যায় হয়েছে। পাঁচ বছরের টার্ম শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি এখনও মনে করি এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি আরও বলেন, “আমি আমার মনের কথা তাঁকে বলে এসেছি। আমি ওনাকে অনুরোধ করেছি, আপনি এতদিন বাংলায় ছিলেন, বাংলাকে ভাল বোঝেন, বাংলায় আবার ফিরে আসুন। এই টুকুই।”

তিনি রাজভবনে না গিয়ে হোটেলে উঠলেন কেন? নতুন রাজ্যপাল শপথ না নেওয়া পর্যন্ত তিনি রাজভবনে থাকতেই পারতেন? এই প্রশ্নের উত্তরে মমতা বলেন, “এটা ওনার শিষ্টাচার। যখন ওনাকে রাখাই হয়নি, তাহলে কেন থাকবেন। উনি হোটেলে থাকতে চেয়েছিলেন। আমি তখন ওনাকে ডিপ্লোম্যাটদের, বিশেষ ব্যক্তিত্বদের যেখানে রাখা হয় সেখানে রেখেছি। এখনও উনি রাজ্যপাল। আমাদের অতিথি হিসেবে তাঁকে এখানে থাকার অনুরোধ করি।”

প্রসঙ্গত, গত ৫ মার্চ দিল্লিতে গিয়ে আচমকা দিল্লিতে গিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন সি ভি আনন্দ বোস। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মর হাতে তাঁর পদত্যাগপত্র তুলে দিয়েছিলেন। সাড়ে তিন বছর বাংলার রাজ্যপাল পদে ছিলেন আনন্দ। তাঁর পদত্যাগ প্রসঙ্গে ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা বলেছিলেন, “রাজ্যপালকে কেন সরানো হয়েছে, সব জানি। এখন যাঁকে এনেছে, বিজেপির প্যারেড করা ক্যাডার। বাংলা অন্য। তামিলনাড়ুতে প্রতিদিন বেচারারা ফেস করেছে। বাংলায় ভোটের একমাস আগে কেন রাজ্যপাল বদলে দিলেন। কাউকে কমপ্লিট করতে দিচ্ছেন না। ধনখড়কেও করতে দেননি। ধনখড় কী করেননি? এখান থেকে নিয়ে গেলেন উপরাষ্ট্রপতি করে। তার পরে নজরবন্দি। ভোটবন্দির মতো।’’ 

মমতা আরও বলেছেন, ‘‘আনন্দবাবুকেও এখানে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল। কারণটা যদিও আমি জানি। কিন্তু আমি বলব না। তাঁকে থ্রেট করা হয়েছে, এটুকু আমি বলব। অনেকে চায় না, রাজভবন বিজেপির পার্টি অফিস হোক। ওখানে বিজেপির টাকা বিলি হোক। সবই করে। এরা কি নৈতিকতা মানে!’’

এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে মমতাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আনন্দ বোস এ রাজ্যে ভোট দিতে আসবেন কি না? উত্তরে মমতা খালি বলেন, তাঁর ইচ্ছে হলে আসবেন।