আজকাল ওয়েবডেস্ক: খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। ভারতের মহিলারা বিশ্ব জয় করে ফেললেন মাঝরাতে। হাসি মুখে কাপ উঁচিয়ে ধরলেন গোটা বিশ্বের সামনে। মেয়েদের ডু'জ, ডোন্ট নিয়ে এই সময়ে, এই সমাজে এখনও লম্বা তালিকা মাঝে মাঝেই খুলে বসেন অনেকে। তবে মেয়েরা, সেসবের গণ্ডি ভেঙেছে কবেই, সে খেয়াল তাঁরা রাখেন না হয়তো। শয়ে শয়ে মেয়ে, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে মনে করিয়ে দিল বাঁধা কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইকেই।

 


খেলো ইন্ডিয়ার অস্মিতা লিগ। যে লিগের ট্যাগ লাইন, খেলার মধ্যেই রয়েছে পরিচয়। হুগলি জেলার বিজয় নারায়ন মহাবিদ্যালয়ে, ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আয়োজিত হল সেই অস্মিতা লিগ। তাতে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা যেমন অবাক করা, লক্ষণীয় ছিল উৎসাহও। আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে উদযাপনের জন্য জেলা ইউথ অফিসার, মাই ভারত হুগলি থেকে এবার উদযাপনের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেয় এই কলেজকেই। ডিওয়াইও'র বার্তা পেয়েই প্রস্তুত হতে শুরু করে কলেজও। তবে, ওই একইদিনে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা ছিল ওই কলেজেই। তার মাঝেই, একেবারে নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হল দুটি বিষয়ই। 

কীভাবে হল গোটা প্রক্রিয়া? কলেজের  অধ্যক্ষ গৌতম বীট জানাচ্ছেন, আয়োজনের আমন্ত্রণ পাওয়ার পরেই, অস্মিতা লিগে  অংশগ্রহোনের জন্য পার্শ্ববর্তী স্কুল গুলিতে যোগাযোগ করা হয় প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকার মাধ্যমে। যোগাযোগে সাড়া আসে বিপুল পরিমাণে। অস্মিতা লিগের সুষ্ঠ আয়োজনের জন্য, স্থানীয় কলেজের প্রাক্তনী এবং কলেজের সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত যাঁরা, তাঁরাও এগিয়ে আসেন। কলেজে সেইন একটি বড় পরীক্ষা থাকার কারণে, অধ্যক্ষ একেবারে গোড়াতেই আন্না বিভাগের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন নানা জনের হাতে। 

জানালেন, এই অস্মিতা লিগে প্রায় সাড়ে তিন'শ জন মেয়ে অংশগ্রহণ করেছিল।  ১৩ বছরের কম বয়সী মেয়েদের জন্য, ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য এবং ১৮ বছরের ঊর্দ্ধের মেয়েদের জন্য, ১০০ মিটার, ২০০ মিতার এবং ৪০০ মিটারের প্রতিযোগিতা ছিল। এছাড়াও একাধিক আয়োজন ছিল কলেজ প্রাঙ্গনেই। কলেজের এনসিসি, এনএসএস-এর ছাত্রীরা দেখভালের সঙ্গেই গোটা প্রক্রিয়া সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে বড় ভূমিকা পালন করেছেন, জানালেন অধ্যক্ষ।

অর্থাৎ যেমন মাঠ দাপিয়েছেন মেয়েরা, দায়িত্বও সামলেছেন কৃতিওের সঙ্গেই। অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, ডিওয়াইও অস্মিতা লিগের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি সহজ করার কারণে, পড়ুয়াদের অংশগ্রহণে সুবিধা হয়েছে। তাঁর মতে, 'সকলে মিলে, সুষ্ঠভাবে আয়োজন সম্পন্ন করতে পেরেছি। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে, দিনভর কলেজে উদযাপন হয়েছে নারী শক্তির।'