আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভরদুপুরে হুলুস্থুল কাণ্ড বেলুড়ের খামারপাড়া এলাকায়। 'ফিস্ট' করার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরল না একই এলাকার তিন-তিনজন নাবালিকা। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ স্থানীয় একটি বহুতল আবাসন নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত তিন ঠিকা কর্মীও। ফলে ঘটনাটিকে ঘিরে নিছকই নিখোঁজ নাকি এর পেছনে কোনো বড়সড় নারী পাচার চক্রের হাত রয়েছে, তা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। ঘটনার তদন্তে নেমেছে বেলুড় থানা ও হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর ১টা নাগাদ বেলুড় খামারপাড়া এলাকার তিন নাবালিকা এক বান্ধবীর বাড়িতে খাওয়া-দাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। নিখোঁজ এক নাবালিকার পিতা গোকুল দে জানান, "আমি নাইট ডিউটি করে সকাল ৯টায় বাড়ি ফিরে শুনি বড় মেয়ে গতকাল দুপুরে জামাকাপড় নিয়ে বেরিয়েছে। ছোট মেয়ের থেকে জানতে পারি, ওর এক বন্ধু ওকে ডাকতে এসেছিল। কিন্তু রাত পেরিয়ে সকাল হলেও ও আর ফেরেনি।" পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু গোকুল বাবুর মেয়েই নয়, এলাকার আরও দুজন নাবালিকাও একইভাবে নিখোঁজ।৬ একই সাথে তিন জন নাবালিকা উধাও হয়ে যাওয়ার খবর ছড়াতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, খামারপাড়া এলাকার একটি বহুতল নির্মাণের কাজ চলছিল। কাকতালীয়ভাবে, নাবালিকারা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই ওই নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত তিন ঠিকা কর্মীরও কোনো সন্ধান মিলছে না। স্থানীয় সূত্রে  ও প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই তিন যুবকের সঙ্গেই কোনওভাবে যোগাযোগ ছিল নাবালিকাদের। অভিযোগ, সুপরিকল্পিতভাবে নাবালিকাদের ফুসলিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এর পেছনে জোর করে ধর্মান্তরকরণ নাকি ভিন রাজ্যে পাচারের কোনো ছক রয়েছে, তা নিয়ে গোকুল বাবু সহ বাকি পরিবারগুলো চরম আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বেলুড় থানায় ইতিমধ্যেই তিনটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এলাকার সিসিটিভি  ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

একসাথে তিন নাবালিকার নিখোঁজ হওয়ার এই ঘটনা পুনরায় সমাজের এক অন্ধকার দিককে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। যেকোনো পরিবারে একটি নাবালিকা সন্তানের নিখোঁজ হওয়া শুধু সেই পরিবারের জন্যই নয়, সমগ্র সামাজিক সুরক্ষার ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার মতো উদ্বেগ সৃষ্টি করে। নাবালিকা নিখোঁজের ঘটনাগুলোর সাথে প্রায়শই সাইবার অপরাধ, প্রেমের ফাঁদ  এবং শেষমেশ নারী পাচারের মতো মারাত্মক অপরাধ জড়িয়ে থাকে। এর ফলে অভিভাবক মহলে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়, যা মেয়েদের স্বাভাবিক চলাচল, শিক্ষা এবং সামাজিক স্বাধীনতাকেও সঙ্কুচিত করে তোলে।
 
 সাম্প্রতিক অপরাধের খতিয়ান ও ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো-র রিপোর্টে দেখা যায়, দেশে সামগ্রিকভাবে নিখোঁজ হওয়া এবং বিশেষ করে নাবালিকা ও নারীদের নিখোঁজ বা পাচারের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। প্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের কারণে অপরাধীরা এখন অনেক সহজেই নাবালিকাদের মগজধোলাই করতে বা প্রলোভন দেখাতে পারছে। একই সাথে বিভিন্ন ভিন রাজ্যের নির্মাণকর্মী বা পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকেরই সঠিক পরিচয়পত্র  স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নথিভুক্ত না থাকায়, এই ধরণের অপরাধ ঘটিয়ে খুব সহজেই তারা গা ঢাকা দিতে পারছে, যা বর্তমান সময়ে পুলিশ প্রশাসনের কাছেও একটি মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।