মিল্টন সেন: ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটে বলাগড়ের জিরাটে সকাল থেকেই উৎসবের মেজাজ। প্রভাত ফেরি, মূর্তি উদ্বোধন, শোভাযাত্রা-সহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে ডঃ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। আয়োজন করা হয় রক্তদান শিবিরেরও।
সকালেই জিরাট কলোনি হাই স্কুলে শ্যামাপ্রসাদের আবক্ষ মূর্তি উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী সুমনা সরকার। জিরাট কলোনি হাই স্কুল থেকে শুরু প্রভাত ফেরির মাধ্যমে জন্ম জয়ন্তীর সূচনা হয়। বলাগড় বিডিও অফিস থেকে শ্যামাপ্রসাদের পৈতৃক ভিটে পর্যন্ত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। ভিটে বাড়ি ও আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হয়েছে শ্যামাপ্রসাদের ছবি ও পোস্টার। স্মৃতিসৌধকে ঘিরে আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।
সোমবার সকাল থেকেই আকাশের মুখ ছিল ভার। বৃষ্টির মধ্যেই পায়ে হেটে শোভাযাত্রায় অংশ নেন মন্ত্রী সুমনা সরকার। পাশাপাশি স্কুলের ছাত্র ছাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীরাও হাতে পতাকা নিয়ে অংশ নেন শোভাযাত্রায়। স্কুলে স্কুলে চলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবিতে মাল্যদান এবং তাঁর জীবনী প্রসঙ্গে তাৎপর্যপূর্ন বক্তৃতা। জিরাটে শ্যামা প্রসাদের পিতার নামে স্কুল লাইব্রেরী রয়েছে।একটি ছোটো মূর্তিও রয়েছে সেখানে। সেই গ্রামও সাজিয়ে তোলা হয় রাজ্য সরকারের তরফে এমনই ঘোষণা করা হয়েছে। খুশি এলাকার বিজেপি কর্মী ও গ্রামসাসীরা।
এদিন শ্যামাপ্রসাদ স্মৃতি সংঘ ময়দানে রাজ্যে সরকার এবং হুগলি প্রশাসনের তরফে পালন করা হল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার এবং ভাস্কর ভট্টাচার্য, চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগ, হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলী কাদরি, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুনওয়ার ভূষণ সিং, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রিসার্চ ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান অনির্বান গাঙ্গুলী, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উত্তরসূরী বাণীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এবং প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ অধিকারীকরা।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান এবং মঞ্চে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানান উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সংগ্রহশালা তৈরির জন্য এদিন অনুষ্ঠানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উত্তরসূরীরা পৈতৃক ভিটের প্রতীকী হস্তান্তর করেন সরকারকে।
এদিন অনির্বাণ গাঙ্গুলী বলেন, "আজ একটা বিশেষ দিনে বিশেষ সন্ধিক্ষনে এই পবিত্র ভূমিতে আমরা একত্রিত হতে অরেছি। আজ একটি উৎসবের দিন। আজ যার জন্য বলাগড়, জিরাট, হুগলি এবং এই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছে, তাঁকে এই পবিত্র মাটিতে শ্রদ্ধা জানাতে পারছি। উনি ছিলেন দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ সদস্য। কিন্তু তাঁর মনের মধ্যে ছিল এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত প্রতিষ্ঠা করা। আমাদেরও অনেক দিনের ইচ্ছে ছিলো জিরাট ভারতের মানচিত্রে একটা আলাদা জায়গা করে নিক। আজ সেটা সম্ভব হচ্ছে। সারা ভারতের মানুষ যেমন সর্দার প্যাটালের মেমোরিয়াল দেখতে যান, কাশি বিশ্বনাথ দেখতে যান তেমনিই এই জিরাটেও যেন স্মৃতি সৌধ সংগ্রহশালা তৈরি হয়।"
বলাগড়ে মন্ত্রী সুমনা সরকার বলেন, "ইতিহাসের পাতায় থাকবে সনাতন সাম্রাজ্যের নাম। মোগল সাম্রাজ্য আর চলবে না। নিশ্চয়ই এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করব। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানানো হবে।"
এছাড়া এদিন চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগের উদ্যোগে চুঁচুড়া বিধানসভার একাধিক জায়গায় পালন করা হয় জন্মবার্ষিকী। জন্ম দিবসের একাধিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ।
সপ্তগ্রামের বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ বলেন, "আগের কোনও সরকার পশ্চিম বাংলার প্রতি ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান সম্পর্কে মানুষকে কিছুই জানায়নি। এটা খুবই অন্যায় হয়েছে।" আগামী দিনে তাঁর বিধানসভার অন্তর্গত সমস্ত স্কুল ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি বসানো হবে বলে জানান তিনি।















