আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার বিধায়কপদে শপথ নিলেন নবনির্বাচিত প্রার্থীরা। ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে এদিন সবার প্রথম শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম দুই আসন থেকেই জিতেছিলেন শুভেন্দু। অর্থাৎ, নন্দীগ্রাম আসনটি তিনি ছেড়ে দিতে চলেছেন। জয়ী বিধায়কদের মধ্যে তিনিই এদিন প্রথম শপথ পাঠ করেন। তারপরে দিলীপ ঘোষ, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু, অগ্নিমিত্রা পালের পর মেখলিগঞ্জের বিধায়ক-সহ বাকি বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়করা নিজেদের আঞ্চলিক ভাষায় শপথ বাক্য পাঠ করলেন।

বিধায়কপদে শপথ নেওয়ার পরে শুভেন্দু বলেন, “আমি ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলাম। আমি যে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পাঁচ বছর নেই, সেটা সেখানকার মানুষদের বুঝতে দেব না। বিধানসভায় সরকারের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।”

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিধানসভায় শুরু হয় বিধায়কপদে শপথগ্রহণ পর্ব। পর পর দু’দিন বুধবার এবং বৃহস্পতিবার ২৯০ জন বিধায়ক শপথ নেবেন। রাজ্যে ২৯৪টি বিধানসভা আসন থাকলেও ফলতায় নতুন করে নির্বাচন হবে ২১ মে। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর দু’টি আসন থেকে জিতেছেন। ফলে মোট ২৯০ জন বিধায়ক শপথগ্রহণ করবেন আগামী দু’দিনে। বুধবার শাসকদলের বিধায়কদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথমবার বিধানসভায় পা রাখেন শুভেন্দু। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেভাবে সংসদে ঢুকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার সময় সেই একই ভাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বিধানসভায় ঢোকার সময় প্রণাম করে প্রবেশ করেন। তাঁকে বিধানসভায় স্বাগত জানান প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। বিধানসভা চত্বরে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয় নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে। বিআর আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করে নিজের কক্ষে যান তিনি। সেখানে গিয়ে পুজোও করেন।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবনীপুর এবং নন্দীগ্রাম দুই আসন থেকেই জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু। ভবানীপুরে তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত করেন শুভেন্দু। অন্যদিকে, তাঁর ঘরের আসন নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে ৯৬৬৫ ভোটে পরাজিত করেন শুভেন্দু।