আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দীর্ঘ খরা কাটিয়ে বামেদের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে আজ শপথ নিলেন ডোমকলের বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানা। গত বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের আসন সংখ্যা শূন্যে নেমে আসার পর তাঁর এই জয়কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ‘লাল দুর্গ’ পুনরুদ্ধারের পথে প্রথম ধাপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এদিন এক অনন্য সাধারণ বেশে বিধানসভায় হাজির হন রানা। কোনও বিলাসবহুল সরকারি গাড়ি নয়, বরং সাধারণ গাড়ি ভাড়া করে শপথ নিতে আসেন তিনি। এমনকি সরকারি নিরাপত্তা রক্ষী নিতেও সাফ অস্বীকার করেছেন এই বিধায়ক। তাঁর সাফ কথা, "ইন্দিরা গান্ধী বা রাজীব গান্ধীদের নিরাপত্তারক্ষীরা বাঁচাতে পারেননি। মরতে হলে এমনিই মরব। আমাকে যদি কেউ বাঁচাতে পারে, তবে তা ডোমকলের মানুষ। কারণ তাদের ভোটেই আমি বিধায়ক হয়েছি।"
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, "মানুষ আমাকে নির্বাচিত করেছেন বর্তমান কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর দাঁড়িয়ে। সিপিআইএম-এর একমাত্র বিধায়ক হিসেবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আমার ওপর অনেক বেশি থাকবে। আমি আমার সর্বাত্মক ক্ষমতা দিয়ে মানুষের কাজ করার চেষ্টা করব।"
বিধানসভায় বামেদের দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং বর্তমানে তিনি ‘একলা পথিক’ হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছুটা আক্রমণাত্মক সুরেই বলেন, "মানুষ একসময় আমাদের শূন্য রেখেছিল, এবার মানুষই ‘১’ করেছেন। এই মানুষই আগামী দিনে আমাদের সংখ্যা বাড়াবেন। বিজেপি-ও তো একসময় ৩৪ বছর এই রাজ্যে শূন্য ছিল, তাতে কোনও অসুবিধা হয়নি। গণতন্ত্রে সংখ্যা দিয়ে সব সময় সব কিছু বিচার করা যায় না। আমরা ১ থেকে আবারও ১০০ হব, ২০০ হব। একা-ই একশো হওয়ার আত্মবিশ্বাস আমার এবং দলের আছে।"
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সকল বিরোধী দলকে একজোট হয়ে লড়াই করার সাম্প্রতিক আহ্বান প্রসঙ্গেও তিনি কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। রানা বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী হয়তো খুব তাড়াহুড়ো করছেন। গত ১৫ বছরে তাঁর সরকার কী কী কীর্তিকলাপ করেছে, তা আগে একবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দেখা উচিত। একজোট হয়ে লড়াই করার আগে ওঁর পাপের প্রায়শ্চিত্ত হওয়া প্রয়োজন।"
বিধানসভায় আজ থেকে মোস্তাফিজুর রহমান রানার নতুন ইনিংস শুরু হল। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁর এই লড়াকু মানসিকতা এবং সাধারণ জীবনযাপন বাম শিবিরে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।















