আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রাণহানির আশঙ্কা থাকায় এবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় সুরক্ষা পেতে চলেছেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। দল বিরোধী কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে গত ডিসেম্বর মাসে তৃণমূল দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়। এর কিছুদিনের মধ্যেই তিনি নিজের রাজনৈতিক দল 'জনতা উন্নয়ন পার্টি' তৈরি করেন। তবে নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করার পর নিজের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকায় গত জানুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেন হুমায়ুন। হুমায়ুনের এই আবেদনে সাড়া দিয়ে জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি নাগাদ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ কেন্দ্রীয় গৃহ মন্ত্রককে নির্দেশ দেন হুমায়ুনের আবেদন বিচার করে দেখার জন্য।

সূত্রের খবর, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর হুমায়ুনকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চেয়ে কেন্দ্রীয় গৃহ মন্ত্রণালয়ে ফের আবেদন করতে হয়েছিল। শুক্রবার হুমায়ুন জানান, আদালতের নির্দেশের পর কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রক কর্তৃক তাঁর আবেদন গৃহীত হয়েছে এবং তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পেতে চলেছেন। 

বর্তমানে হুমায়ুনের সঙ্গে ছ' জন বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াও রাজ্য পুলিশের দু'জন সশস্ত্র জওয়ান থাকেন। হুমায়ুন জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পেলে তাঁর সঙ্গে আর বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষীরা থাকবেন না।

হুমায়ুন বলেন, "গত ১৯ জানুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রককে আমাকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সেই নির্দেশেনামায় উল্লেখ ছিল, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে আমাকে আবার কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রককে একটি চিঠি পাঠিয়ে নিরাপত্তার আবেদন করতে হবে। এই নির্দেশ মোতাবেক আমি এক সপ্তাহের মধ্যেই কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রকে আমার নিরাপত্তার আবেদন জানিয়ে একটি চিঠি পাঠাই।" 

তিনি আরও বলেন, "আজ জানতে পেরেছি কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রক আমার আবেদন স্বীকার করে নিয়েছে এবং এবার থেকে আমি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পেতে চলেছি।" তিনি জানান, "কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দু'ধরনের হয়। কোনওক্ষেত্রে যে নিরাপত্তারক্ষীরা আমার সঙ্গে যেখানে যাবেন, সরকারের তরফ থেকেই তাঁদের থাকা-খাওয়া এবং গাড়ির ব্যবস্থা করা হবে। আবার অন্যদিকে, আর একধরনের ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তারক্ষীরা যেখানে আমার সঙ্গে যাবেন তাঁদের গাড়ির ব্যবস্থা আমাকেই করতে হবে। আমি এখনও পর্যন্ত জানি না নির্দেশনামায় কোন পদ্ধতির কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাওয়ার পর আমার সঙ্গে বর্তমানে যে ৬ জন বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন তাঁরা আর থাকবে না।"