আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে সরকার বদল হতেই জনবহুল সড়কের পাশে বিতর্কিত ভাস্কর্য ভেঙে দিয়েছিল ক্ষিপ্ত জনতা ৷ এবার সেই ভাঙাচোরা মূর্তি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে এলাকা পরিষ্কার করল বনগাঁ পৌরসভা। তদারকি করলেন  বনগাঁ পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর তথা হাবরার বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল ৷ সঙ্গে ছিলেন পৌরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদার৷

এবিষয়ে কাউন্সিলর ও বিধায়ক দেবদাস মন্ডল বলেন,  "পৌরসভার বোর্ড মিটিংয়ে আমি বলেছিলাম ওই স্মৃতি সৌধটা ভেঙে দিতে হবে৷ চেয়ারম্যান সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি বলেছি আজই দিতে হবে ৷ এক ঘণ্টার মধ্যে বুলডোজার এনে ভাঙার কাজ শুরু হয় ৷ প্রাক্তন চেয়ারম্যান শংকর আঢ্য ব্যবসায়ীদের কাছে অর্থ চেয়েছিলেন। তা না দেওয়াতে এই ভাস্কর্য দোকানগুলি সামনে তৈরি করেছিলেন ৷" পাশাপাশি তিনি বলেন, বনগাঁয় যত বেআইনি নির্মাণ আছে সেগুলো ভাঙার নির্দেশ দিয়েছি পৌর প্রধানকে। তিনি দ্রুত সেই কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন ৷

অন্যদিকে বড় বড় স্ট্যাচুগুলি ভেঙে এলাকা পরিষ্কার করায় খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের বক্তব্য, আমরা বহুবার দরবার করেছি কিন্তু হয়নি এবার সরকার বদল হতেই দেবদাস মন্ডল এবং গঙ্গা পৌরসভা মিলে ভাস্কর্য ভেঙে আগের পরিবেশ ফিরিয়ে দিলেন।

জানা গিয়েছে বনগাঁ বাটার মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে বড় বড় স্ট্যাচু রয়েছে ৷ ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর নীল বিদ্রোহের কাহিনী অবলম্বনে সেই ভাস্কর্য তৈরি করা হয়েছিল। সেই স্ট্যাচুগুলো বসানোর পর থেকেই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরিয়ে নেয়ার দাবি জানাচ্ছিলেন ৷ বিতর্ক চলছিল ৷ তৎকালীন বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যানের এমন কাজ নিয়ে প্রশ্নও উঠছিল ৷  ব্যবসায়ীদের বক্তব্য  তৎকালীন চেয়ারম্যান শংকর আঢ্য সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের আপত্তিকে অগ্রাহ্য করে ই এই ভাস্কর্য গুলি সেখানে তৈরি করেছিলেন৷ কিন্তু সাধারণ মানুষ ২০১৮ সালের বাগদার আমডোব গ্রামের পঞ্চায়েত ভোটের হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে 'আমডোবের'স্মৃতি বলত ওই ভাস্কর্যকে  ৷ 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা উপেক্ষা করেই জোর করে এই ভাস্কর্য ওখানে লাগানো হয়েছিল ৷ ফলে যানজটে নাকাল হতেন এলাকার মানুষ। দিনের বেলাতেও  চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার হতে হত৷