আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসুন 'বাবরি' মসজিদের কাজ দেখে যান। জনতা উন্নয়ন পার্টি'র কর্ণধার এবং মুর্শিদাবাদের ভরতপুর বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আমন্ত্রণ জানালেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক ড. হুমায়ুন কবীরকে। গত বুধবার তিনি ফোন করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। 

এবিষয়ে আজকাল.ইন-কে জনতা উন্নয়ন পার্টি'র কর্ণধার ও ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন বলেন, "গত দু'দিন আগে আমি ফোন করেছিলাম। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি মসজিদ তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। ওঁকে আসতে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। কাজ দেখার জন্য। তিনি জানিয়েছেন সময় পেলে আসবেন।" এবিষয়ে ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, "দেখা যাক। এখনও দেরি আছে।" 

গত ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় প্রস্তাবিত বাবরি  মসজিদ-এর  শিলান্যাস করেন হুমায়ুন কবীর। মসজিদ তৈরির জন্য তিনি সকলকে অর্থ সাহায্য করার আবেদন জানান। অনলাইনে টাকা পাঠানোর পাশাপাশি যদি কেউ নগদে টাকা দিতে চান সেজন্য দানবাক্সের ব্যবস্থাও করেছেন। যদিও তিনি আগেই ঘোষণা করেছিলেন বাবরি ধংসের দিন অর্থাৎ ৬ ডিসেম্বর তিনি এই মসজিদের শিলান্যাস করবেন। হুমায়ুনের এই ঘোষণার পরেই তাঁর পুরনো দল তৃণমূল তাঁর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করে এবং শেষপর্যন্ত তৃণমূল তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করে। তৃণমূল সাসপেন্ড করার পরেই হুমায়ুন নিজের রাজনৈতিক দল গড়ার বিষয়ে উদ্যোগী হন এবং ঘোষণা করেন রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বহু আসনেই প্রার্থী দেবেন। এরপর তৈরি হয় তাঁর দল নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি। 

নতুন দল তৈরির পরে পরেই তিনি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার জন্য বিভিন্ন বিরোধী দলগুলির সঙ্গে জোট গঠনের উদ্দেশ্যে নামেন। চলতি সপ্তাহের বুধবার তিনি নিউ টাউনের একটি হোটেলে মিলিত হন রাজ্য সিপিএম-এর সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে। যদিও বৈঠক শেষে বেরিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক জানিয়েছিলেন, তিনি হুমায়ুনের 'মন' বুঝতে গিয়েছিলেন। হুমায়ুন কী চাইছেন বা তাঁর নতুন দল কী চাইছে সেটা বুঝতেই তিনি হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন বলে মহম্মদ সেলিম জানিয়েছেন। অন্যদিকে হুমায়ুন জানিয়েছেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম ও আইএসএফ-এর সঙ্গে তিনি জোট বেঁধে লড়তে চান। সেই বিষয়েই তাঁর সঙ্গে মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে কথা হয়েছে।