আজকাল ওয়েবডেস্কঃ রাজ্যে সরকারের পালাবদলের পরই কড়া পদক্ষেপ রেল কর্তৃপক্ষের। বিনা টিকিট যাত্রীদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান চালিয়েছে পূর্ব রেল। মালদহ ডিভিশনে বিনা টিকিটে ভ্রমণকারী যাত্রীদের জরিমানা করে রেকর্ড আয়ের নজির গড়ল রেল কর্তৃপক্ষ। ২০২৬ সালের মে মাসের প্রথম ১০ দিনেই টিকিট চেকিং থেকে প্রায় ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকা আয় হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল প্রশাসন।

পূর্ব রেলের এই ঘটনাকে একরকমের ঐতিহাসিক নজির বলেই আখ্যা দিয়েছে। রেল সূত্রের দাবি, মালদহ ডিভিশনের ইতিহাসে এযাবৎকালে টিকিট চেকিংয়ের মাধ্যমে ১০ দিনের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ আয়। 


রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, মালদহ ডিভিশনের অন্তর্গত বিভিন্ন স্টেশন ও দূরপাল্লার ট্রেনে বিশেষ টিকিট পরীক্ষার অভিযান চালানো হচ্ছে। বিনা টিকিটে যাতায়াত, অনিয়মিত টিকিট ব্যবহার এবং নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে যাত্রীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। ধারাবাহিক এবং নিবিড় টিকিট পরীক্ষার ফলেই এই উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে বলে মনে করছে রেল প্রশাসন।

 

পূর্ব রেলওয়ে মালদা ডিভিশনের সিনিয়ার ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার কার্তিক সিং জানান,  চলতি বছরের মে মাসের প্রথম ১০ দিনের টিকিট চেকিং আয় আগের তুলনায় প্রায় ২৮১.৪৪ শতাংশ বেশি। অঙ্কের হিসাবে, এক কোটি তিন লক্ষ টাকা আয় হয়েছে রেলের। মূলত, ফরাক্কা,আজিমগঞ্জ-সহ একাধিক ছোট ছোট স্টেশনে এই অভিযান করা হয়। ফলে একদিকে যেমন রেলের রাজস্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে, যাত্রীদের মধ্যেও নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকে পূর্ব রেলওয়ে এক উজ্জ্বল আর্থিক সাফল্যের খতিয়ান পেশ করেছে। যাত্রী পরিবহণ থেকে প্রাপ্ত আয়ের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয়ে প্রশংসনীয় হ্রাসের উপর ভিত্তি করেই এই সাফল্য বলে দাবি রেলের। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান পূর্ব রেলের রাজস্ব বহুমুখীকরণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলার প্রতি কৌশলী ভাবনারই প্রতিফলন। যা আঞ্চলিক অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার করেছে। গত জানুয়ারির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পূর্ব রেলের যাত্রী পরিবহণ বাবদ আয় গত অর্থবর্ষের একই সময়ের ৯৮৪.৮১ কোটি টাকা থেকে ১৮.৬৫% বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১,০৬১.৬৫ কোটি টাকা হয়েছে। আয়ের এই বিরাট ফারাকের পাশাপাশি যাত্রী সংখ্যা ২.৫৬% বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪২.০৭ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে।

রেলের বিবিধ আয়ের ক্ষেত্রে, ভাড়া-বহির্ভূত রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত ‘বিভিন্ন উদ্যোগ’ থেকে অসাধারণ ফলাফল পাওয়া গেছে। স্টেশন বিজ্ঞাপন, জমি-লিজ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক উৎস থেকে আসা এই আয়ের পরিমাণ ৬৬.১৪ কোটি টাকা থেকে ১১০.৭% বৃদ্ধি পেয়ে ১৩৯.৩৬ কোটি টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। কার্যত দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, বাণিজ্যিক বিভাগে কড়া টিকেট চেকিং অভিযানের ফলে এই খাত থেকে প্রাপ্ত আয় ২৫.৬৯% বৃদ্ধি পেয়ে রাজকোষে ২৪.৯৫ কোটি টাকা যুক্ত হয়েছে।