গোপাল সাহা ও রিয়া পাত্র: রবিবারের পর সোমবার। ফের রেললাইনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের আতঙ্ক। প্রাথমিকভাবে যদিও গোটা ঘটোনাকে সাময়িক সময়ের জন্য বিস্ফোরণ বলে মনে করা হয়েছিল।  যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তে। তবে বিস্ফোরণের আতঙ্ক নাকি বিস্ফোরণ? রেলের পক্ষ থেকে ঘটনা প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে, বিস্ফোরণের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ঠিকই, তবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি।

 

প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য, ঘটনাটি ঘটে রবিবার বিকেলে।  ভুবনেশ্বর থেকে দিল্লিগামী এক্সপ্রেস ট্রেন  পিয়ারডোবা-গড়বেতার মাঝে আচমকা থেমে যায়। পিছন থেকে ভেসে আসে বিকট শব্দ।  কিছুক্ষণেই ট্রেনের চালক ধারণা করেন, জঙ্গলমহলে রেললাইনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় মিনিট কুড়ি ট্রেন থামিয়ে রাখা হয় সেখানে। তল্লাশি চালানো হয় চতুর্দিকে। খতিয়ে দেখা হয় স্টেশন এবং সংলগ্ন অঞ্চল। রেল সূত্রের খবর, আতঙ্ক ছড়ালেও তল্লাশিতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের কোনও ঘটনা ঘটেনি। 

আরও পড়ুন: নিজের বাসভবনের সামনেই কংগ্রেস সাংসদের সঙ্গে ভয়াবহ ঘটনা, গলার হারটুকুও ছিঁড়ে নিল সে! দিল্লিতে সুরক্ষা

তবে বিস্ফোরণের আতঙ্কে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর জঙ্গলমহল সফরের ঠিক আগে এই ভয়াবহ নাশকতার কি না, তা নিয়ে রিতিমত চিন্তা তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে।  গোটা ঘটনায় মাও যোগ রয়েছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। একই সঙ্গে প্রশ্ন ঘুরছে, মাওবাদী শহীদ সপ্তাহের কারণে কেউ এই সময়ের সুযোগ লাগিয়ে নাশকতার ছক কষা হচ্ছে কি না।

 

এর আগে, রবিবার রেললাইনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় রেলকর্মীর। ওই ঘটনাতেও সন্দেহের তীর মাওবাদীদের দিকে। দাবি করা হচ্ছে, সন্দেহভাজন মাওবাদী হামলায় আইইডি বিস্ফোরণের কারণে রেলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে ওড়িশা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী সুন্দরগড় জেলার একটি রেললাইনে। রবিবার এই ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত রেলকর্মীর নাম ইটুয়া ওরাম। তিনি ভারতীয় রেলের ‘কি-ম্যান’ পদে কর্মরত ছিলেন। বিস্ফোরণের স্থানে মাওবাদী পোস্টার উদ্ধার হওয়ায় পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই ঘটনার পেছনে মাওবাদীদের হাত থাকতে পারে।

ঘটনাটি ঘটেছে, বিমলগড় শাখার অন্তর্গত করমপাড়া ও রেঞ্জদা সংযোগকারী রেললাইনে। বিস্ফোরণে রেললাইনের আংশিক ক্ষতি হলেও যেহেতু এটি একটি লুপ লাইন, তাই যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলে প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ-পূর্ব রেলের এক মুখপাত্র। জানা গিয়েছে, মাওবাদীরা ২৮ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ‘শহিদ সপ্তাহ’ পালনের ডাক দিয়েছিল। বিস্ফোরণস্থলটি সারান্ডা অরণ্য এলাকার মধ্যে পড়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশ আধিকারিক। 

 

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাজি এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতি শোকপ্রকাশ করেছেন এবং মৃত রেলকর্মীর পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন। এই অর্থ মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল (CMRF) থেকে দেওয়া হবে বলে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছে। এই ঘটনার ফলে আবারও প্রশ্ন উঠছে মাওবাদী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয় চার জন নকশাল মাওবাদী। তাদের মধ্যে দু’জন মহিলাও ছিলেন।

 

নিহত নকশালদের প্রত্যেককে মিলিয়ে ধরলে তাদের ওপর ছিল মোট ১৭ লক্ষ টাকার পুরস্কার। এরা সকলেই দক্ষিণ সাব-জোনাল ব্যুরোর সদস্য বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন অ্যাক্টিভ কমিটি মেম্বার (ACM) স্তরের এবং একজন পার্টি সদস্য ও কমান্ডার।