মিল্টন সেন, হুগলি: এখনও স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাঁর মধ্যেই পৌঁছলো শুনানির নোটিস। সাদা থান পরে শুনানির লাইনে দাঁড়ালেন শোকগ্রস্ত স্ত্রী। এই ঘটনাটি ঘটেছে রিষড়া কেসি সেন রোড এলাকায়। আম্বেদকর সরণীর বাসিন্দা পাপিয়া সাহা রায়, শ্রীরামপুর বিধানসভার ২৭০ নং বুথের ভোটার। গত রবিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তার স্বামী মানব রায়ের। মঙ্গলবার সাদা থানা পরে এসআইআর শুনানিতে হাজির হলেন পাপিয়া সাহা।

এদিন তিনি বলেন, স্বামীর সঙ্গেই শুনানিতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে শোকের জায়গা নেই শুনানির জন্য। বলছেন, 'এই অবস্থাতেও আসতে হল। কারণ, আর অন্য দিন পাওয়া যাবে কিনা তা নিশ্চিত নয়।' সঙ্গেই তিনি বলেন, 'কাজ মিটলে যে শুনানিতে আসব, তা তো হাতে নেই আমার।' এই প্রসঙ্গে তৃনমূল কাউন্সিলর সুখ সাগর মিশ্র বলেন, 'স্বামীর মৃত্যু হয়েছে, তারপরও শুনানিতে আসতে হয়েছে মহিলাকে। আধিকারীকদের কিছুটা দ্রুত কাজ শেষ করার অনুরোধও জানান তিনি। অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, 'কমিশন এসআইআর এর নামে চরম হয়রানি করছে মানুষকে।'এই চূড়ান্ত হয়রানির জন্য কমিশনকে ধিক্কার জানান ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ঝুম্পা দাস সরকার ও প্রাক্তন কাউন্সিলর শুভজিত সরকারও। বলেন এই হয়রানির প্রতিফলন ঘটবে ভোট বাক্সে। মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে।

 

 

শুনানি নিয়ে সামনে এসেছে আরও এক ঘটনা। বিয়ের দিনেই শুনানির নোটিস। শেষমেশ বিয়ের সাজে শুনানিকেন্দ্রে পৌঁছলেন বর।  ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার ২৬২ নম্বর বুথে এমন দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন স্থানীয় মানুষজন। 

নিজের বিয়ের দিন সকালে বরের সাজেই এসআইআরের শুনানিকেন্দ্রে হাজির হলেন আনোয়ার হোসেন নামের এক যুবক। তাঁর বিয়ে ঠিক ছিল হাওড়ায়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তরফে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির নোটিশ পাওয়ায় বিয়ের মণ্ডপে যাওয়ার আগে বাধ্য হয়েই তিনি পৌঁছে যান ষাটমনিষা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। যেখানে অস্থায়ীভাবে শুনানিকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। 

শুধু আনোয়ার হোসেনই নন, তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বরযাত্রীরাও। জানা গেছে, মোট ৩৮ জন বরযাত্রীকেও একইভাবে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। ফলে বিয়ের আনন্দের বদলে সকালের বড় একটা সময় কেটেছে লাইনে দাঁড়িয়ে নথিপত্র জমা দেওয়ার মধ্যেই। অনেকেই পরেছিলেন বিয়ের পোশাক। কারও গায়ে পাঞ্জাবি, কারও মাথায় টোপর—এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ঘিরে এলাকায় কৌতূহল ও ক্ষোভ দুটোই ছড়ায়।