আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর আতঙ্কে বুধবার ফের এক ব্যক্তির মৃত্যু হল মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি বিধানসভা এলাকায়। মৃত ওই মহিলার নাম হাসিনা বিবি (৭৬)। তাঁর বাড়ি জলঙ্গি বিধানসভার অন্তর্গত ঘোষপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সর্বপল্লি গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসিনা বিবির একাধিক ছেলে মেয়ের নামে এসআইআর শুনানির নোটিশ এসেছে। তাঁদেরকে দেশ ছাড়া হতে পারে এই আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বুধবার সকালে হাসিনার মৃত্যু হয় বলে তাঁর পরিবারের দাবি। এই ঘটনায় ফের একবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারও মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত নওদাপাড়া গ্রামে আকসার শেখ নামে এক ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
আকসারের পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম রাখার জন্য আকসার এনুমারেশন ফর্ম বিএলও-র কাছে জমা করেছিলেন। কিন্তু নামের কিছু ভুল থাকার জন্য তাঁকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছিল। এসআইআর-এর শুনানির পর দেশ ছাড়তে হতে পারে এই আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আকসার মারা গিয়েছেন বলে তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জলঙ্গি ঘোষপাড়া সর্বপল্লি গ্রামের বাসিন্দা হাসিনা বিবির ৫ ছেলে এবং ২ মেয়ে। ছয়ের বেশি সন্তান হওয়ার জন্য এবং বাবা-মার সম্পর্কে নামের কিছু গন্ডগোল থাকায় ওই মহিলার কয়েকজন সন্তানকে আগামী ৩০ জানুয়ারি এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সূত্রের খবর এসআইআর শুনানির পর সন্তানদের দেশ ছাড়া করা হতে পারে এই আতঙ্কে বুধবার সকাল সাতটা নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় হাসিনা বিবির।
সাহিদুল মণ্ডল নামে ওই মহিলার এক ছেলে জানান, "আমরা মোট পাঁচ ভাই ও দুই বোন। আমার বাড়ির কয়েকজন সদস্যর নামে এসআইআর শুনানির নোটিশ আসায় মা আতঙ্কে ভুগছিলেন। আমরা মাকে বহুবার বলেছিলাম সময়মতো সমস্ত নথি জমা আমরা জমা করে দেব।"
ওই ব্যক্তি জানান, "বুধবার সকালে আমার কয়েকজন ভাই মাঠে কাজ করতে চলে যান। মায়ের সঙ্গে যখন আমি কথা বলছিলাম সেই সময় হঠাৎ করে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয়।"
সাহিদুল অভিযোগ করেন, "এসআইআর-এর নামে যেভাবে আমাদের পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে তাতে আমার মা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন এবং সেই কারণেই হৃদরোগ আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।"
গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে জলঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রজ্জাক বলেন, "জাতীয় নির্বাচন কমিশন যেভাবে তাড়াহুড়ো করে রাজ্যে এসআইআর লাগু করতে চাইছে তাতে বহু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নিজেদের নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে। যারা বছরের পর বছর এই দেশে নাগরিক হিসেবে ভোট দিয়েছেন হঠাৎ করে তাঁদেরকে নতুন করে নথি দেখানোর জন্য বলা হচ্ছে। এই কারণেই সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হচ্ছেন এবং অনেকেই তার ফলে মারা যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনকে আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি।"
