আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্য জুড়ে এসআইআর নিয়ে শুনানি প্রক্রিয়াতে সাধারণ মানুষের হয়রানির মধ্যেই এবার এসআইআর-এর  শুনানির নোটিস পেলেন মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির তৃণমূল বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস। বাইরন বিশ্বাস সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান পুরসভার যে বুথের ভোটার সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও শনিবার সন্ধে নাগাদ তৃণমূল বিধায়কের বাড়ি গিয়ে তাঁর হাতে শুনানির জন্য নোটিস ধরান বলে জানা গিয়েছে। 

তৃণমূল বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসকে আগামী ২৪ তারিখ দুপুর আড়াইটা নাগাদ শুনানির জন্য হাজিরা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী পরিবারের ছেলে বাইরন বিশ্বাসকে এসআইআর শুনানির নোটিস দেওয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। 

প্রসঙ্গত 'লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি' এবং 'আন ম্যাপড' ভোটার তালিকায় নাম থাকার জন্য সম্প্রতি এসআইআর শুনানির নোটিস পেয়েছেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার  লক্ষ্মীরতন শুক্লা ,ক্রিকেটার মহম্মদ শামি থেকে শুরু করে বিখ্যাত অভিনেতা দেব পর্যন্ত। ভোটার তালিকায় বাবার নামে ছোট্ট ত্রুটি থাকার জন্য এসআইআর শুনানিতে ডাক পেয়েছেন বাম নেত্রী দীপ্সিতা ধর।  সূত্রের খবর মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় ১৬ লক্ষ মানুষকে এসআইআর -এর শুনানির জন্য নোটিস দেওয়া হতে পারে। 

মাত্র দু'দিন আগে এসআইআর শুনানির জন্য নোটিস পেয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলার অপর এক তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের শ্রম দপ্তরের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। এবার মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে তৃণমূলের অপর বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসকে শুনানির নোটিস ধরানোয়  চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। 

শনিবার সন্ধে নাগাদ ধুলিয়ান পুরসভার অন্তর্গত ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৯  নম্বর বুথের বিএলও অঙ্কুশ কুমার ভকত বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসের হাতে এসআইআর শুনানির নোটিশ ধরিয়ে যান। সেই নোটিসের আগামী ২৪ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটার সময় বিধায়ককে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে   শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
 
প্রসঙ্গত মুর্শিদাবাদ জেলায় বাইরন বিশ্বাসের পরিবার বিশিষ্ট 'শিল্পপতি পরিবার' হিসেবে পরিচিত। বিধায়কের পরিবারের সদস্যরা বিড়ির ব্যবসা ছাড়াও  স্বাস্থ্য, শিক্ষা-সহ আরও একাধিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন। 
এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পর বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস বলেন,"আমার বাবা এই জেলার অন্যতম বিশিষ্ট শিল্পপতি ছিলেন। গোটা রাজ্যে আমাদের পরিচিতি রয়েছে। আমরা বহু বছর ধরে এই জেলার বাসিন্দা। তাও  আমাকে এসআইআর-এর শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছে।"
 
গোটা বিষয়টিকে বিজেপির চক্রান্ত বলে দাবি করে বাইরন বলেন,"এসআইআর শুরুর আগেই বিজেপি বলেছিল তারা দেড় কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে দেবে। বিজেপির এই দাবিকে মান্যতা দিতে নির্বাচন কমিশন এখন ছলে বলে কৌশলে বিভিন্নভাবে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিতে চাইছে। একজন বিধায়ক হিসেবে আমার সঙ্গে যদি এই ধরনের আচরণ করা হয় তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কী করা হচ্ছে তা সহজে অনুমেয়। আমরা এই অনৈতিক এসআইআর মানছি না।"
 
তৃণমূল বিধায়ক আরও অভিযোগ করেন,"জাতীয় নির্বাচন কমিশন এসআইআর -এর নামে ছেলে খেলা করছে। তারা সাধারণ লোককে আতঙ্কিত করতে চাইছে। আমি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন রাখছি প্রত্যেকে নিজের কাগজ ঠিক রাখুন এবং নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে ডাক পেলে সেখানে সঠিক সময় হাজিরা দিন। এরপরও যদি কোনও অসুবিধা হয় যে কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমি সকলকে সাধ্যমত সাহায্য করবো।"