আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে ফের মৃত্যু বিএলও'র। অভিযোগ এসআইআর-এর কাজের চাপের দিকেই। ঘটনায় শোকের ছায়া পরিবারে।
শিলিগুড়ির ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, বিএলও শ্রবন কুমার কাহারের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। জানা গিয়েছে, সেবকের করোনেশন ব্রিজ থেকে তিস্তা নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি। পরে তাঁর দেহ উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, মৃত শ্রবন কুমার কাহার পেশায় শিক্ষক ছিলেন। তিনি শিলিগুড়ি দেশবন্ধু বিদ্যাপীঠে কর্মরত ছিলেন এবং পাশাপাশি বিএলও-র দায়িত্বও পালন করছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি আট ভাইয়ের মধ্যে একজন। তাঁর পরিবারে স্ত্রী ও বাবা-মা রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার বিকেল নাগাদ বাসে করে শ্রবন সেবকে পৌঁছান। এরপর করোনেশন ব্রিজে গিয়ে তিস্তা নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসতেই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। নদীর জলস্তর কম থাকায় ব্রিজের নীচ থেকেই তাঁর দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছান শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জয় পাঠক। শাসক দলের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে দাবি করা হচ্ছে, এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
মেয়র গৌতম দেব বলেন, “দিনের পর দিন কাজের চাপ বাড়ছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলানো হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, এই মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ নেই। এসআইআর-এর চাপই এর মূল কারণ। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে জানানো হয়েছে। এভাবে একের পর এক মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।”
অন্যদিকে কাউন্সিলর সঞ্জয় পাঠক বলেন, “শ্রবনের জন্ম এই এলাকাতেই। প্রায় ৮০–৯০ বছর ধরে ওদের পরিবার এখানে বসবাস করছে। দেখা হলেই কাজের চাপের কথা বলত। এসআইআর-এর কাজ চলাকালীন কারও নাম বাদ পড়লে তার দায় এসে পড়ত ওর উপর। কৈফিয়ত দিতে হত। এই চাপের কথা সে আগেও জানিয়েছে। আজ এলাকায় এক পরিচিতকে জংশনে নামিয়ে দিয়ে সেবকে যায়, সেখান থেকেই এই ঘটনা ঘটে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
