আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর আতঙ্কে মুর্শিদাবাদে একের পর এক মৃত্যু। রাজ্যজুড়ে শুনানির কারণে মৃত্যুমিছিল অব্যাহত। এবার দেশের বাইরে থাকাকালীন অবস্থায় এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হলেন মুর্শিদাবাদের এক যুবক। মৃত ওই যুবকের নাম ইব্রাহিম শেখ (৩৫)। তাঁর বাড়ি মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার অন্তর্গত হিজল নতুনপাড়া এলাকায়। জানা গিয়েছে, তাঁর স্ত্রী এবং দুই পুত্র সন্তান রয়েছে।

বিগত এক বছর ধরে ইব্রাহিম সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। মৃতের স্ত্রী রেকশোনা বিবির অভিযোগ, এসআইআর শুনানির আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন তাঁর স্বামী। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ইব্রাহিম শেখের বাবার নাম এবং ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর বাবার নামের মধ্যে 'মিস ম্যাচ' থাকায় তাঁকে শুনানিতে  ডাকা হয়েছিল। 

শুনানির নোটিশ আসার পর থেকেই আতঙ্কে ভুগছিলেন ইব্রাহিম। পরিবারের তরফে তাঁকে বারবার বোঝানো হলেও তাঁর আতঙ্ক কাটেনি। শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে মঙ্গলবার তাঁর স্ত্রী রেকশোনা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু তখনই ফোনে খবর আসে তাঁর স্বামী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। স্বামীর এই আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে রেকশোনা সহ গোটা পরিবার। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যের মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দুই পুত্র সন্তান সহ রেকশোনা বিবি।

তিনি বলেন, "আমার স্বামী ইব্রাহিম শেখ সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। এসআইআর শুনানির নোটিশ আসার পর থেকেই তিনি আতঙ্কে ভুগছিলেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল সন্তান সহ তাঁকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।"

রেকশোনা আরও বলেন,"আমি এবং আমাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাঁকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। যেহেতু তিনি দেশে ছিলেন না, তাই তাঁর সমস্ত রকম কাগজপত্র নিয়ে আমি শুনানিতে আসি। কিন্তু আজ শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে ফোনে খবর পেলাম আমার স্বামী বিদেশে থাকাকালীন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। এখন দুই ছেলেকে নিয়ে আমি কোথায় যাব, কীভাবে সংসার চালাবো কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।"

সূত্রের খবর মৃত ওই যুবককের বাবার নাম কোনও নথিতে রয়েছে শেখ রশিদ এবং কোথাও রয়েছে রশিদ শেখ। তথ্যের এই অমিলের জন্য ইব্রাহিমকে শুনানির নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
 
ঘটনার খবর পেয়েই শুনানি কেন্দ্রে ছুটে আসেন কান্দির তৃণমূল বিধায়ক অপূর্ব সরকার এবং কান্দি থানার আইসি মৃণাল সিনহা। তাঁরা মৃত ইব্রাহিম শেখের দেহ বাড়িতে আনার জন্য পরিবারের পাশে সবরকমভাবে। অপূর্ব সরকার বলেন, "নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় নাম তোলবার সময় কাজটি 'আউট সোর্সিং' করায় বিভিন্ন ভুল ভ্রান্তি এবং 'টাইপিং মিসটেক' করেছে। এর ফলে 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি'র জন্য অনেকের শুনানিতে ডাক পড়ছে।

মঙ্গলবার এসআইআর শুনানির নোটিশের জন্যই ইব্রাহিম শেখ আত্মহত্যা করেছে। ইব্রাহিম শেখের মৃত্যুর  দায়ভার বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। মৃতের দুই নাবালক সন্তান এবং স্ত্রীকে কে দেখবে। এসআইআর পর্বে এখনও পর্যন্ত যারা মারা গিয়েছেন তাঁদের পরিবারের একটি প্রতিনিধি দল আজই দিল্লি যাচ্ছেন।"