আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৫ সালের স্যালাইন কাণ্ডের ক্ষত এখনও শুকায়নি। তার মধ্যেই ফের একই অভিযোগে কাঠগড়ায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এক রোগিণীকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসল স্বাস্থ্য দপ্তর।
শুক্রবার রাতেই হাসপাতালের পাঁচ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে শোকজের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে এত বড় ঘটনার পরও কি শিক্ষা নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ? শোকজের তালিকায় রয়েছেন সিস্টার-ইন-চার্জ, স্টাফ নার্স, অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিনটেনডেন্ট, অতিরিক্ত মেডিক্যাল সুপার (এমএসভিপি) এবং স্টোর ইনচার্জ।
ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য ভবনের প্রতিনিধি দল হাসপাতালের স্টোর ঘুরে তদন্ত করেছে। জেলা শাসকের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টও স্বাস্থ্য দপ্তরে জমা পড়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগরপল্লির বাসিন্দা ৬২ বছরের মানসী দে। গত ৫ জুলাই হার্ট ও কিডনির সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। পরে তাঁর স্ট্রোক ধরা পড়ে।
অভিযোগ, বুধবার তাঁকে যে ডেক্সট্রোজ স্যালাইন দেওয়া হয়, তার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল চলতি বছরের মার্চ মাসেই। রোগিণীর ছেলে বিশ্বজিৎ দে-র দাবি, স্যালাইন চলাকালীন তাঁর মা বুকে জ্বালার কথা জানান। স্যালাইনের বোতল হাতে নিয়ে তিনি দেখেন সেটির মেয়াদ অনেক আগেই ফুরিয়ে গেছে।
অভিযোগ, বিষয়টি ওয়ার্ডের নার্সদের জানালে তাঁরা বলেন, "এত রোগীর মধ্যে প্রতিটি স্যালাইনের মেয়াদ দেখে দেওয়া সম্ভব নয়।" শুধু তাই নয়, তাঁর দাবি, একই ওয়ার্ডে আরও কয়েকটি মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইনের বোতল পড়ে ছিল। অভিযোগের পরেই তড়িঘড়ি মানসী দে-কে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)-তে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোতোয়ালি থানার পুলিশ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিলেও, প্রশ্নের মুখে পড়েছে গোটা ওষুধ সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থা। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ২০২৫ সালে স্যালাইন কাণ্ডে দুই প্রসূতি ও এক নবজাতকের মৃত্যুর পরও কেন একই ধরনের অভিযোগ সামনে এল? সেই ঘটনার পর সিআইডি তদন্ত, স্বাস্থ্য ভবনের বিশেষ তদন্ত, একাধিক চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সবকিছুর পরও কীভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন রোগীর শরীরে পৌঁছল? এই ঘটনার জেরে ফের অস্বস্তিতে স্বাস্থ্য দপ্তর। তদন্তে কার গাফিলতি সামনে আসে এবং শোকজের পর কী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।















