মিল্টন সেন: গ্যাসের অস্বাভাবিক ঘাটতির জেরে ভোগের মেনুতে কাটছাঁট করতে বাধ্য হল শ্রীরামপুরের প্রাচীন রাধাবল্লভ মন্দির কর্তৃপক্ষ। মন্দিরে এক নোটিশ টাঙিয়ে জানানো হয়েছে, আপাতত ভোগে আর কোনও ভাজাভুজি দেওয়া হবে না।

হুগলির শ্রীরামপুরের এই ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে প্রতিদিনই পাঁচশোরও বেশি ভক্তের জন্য ভোগ রান্না করা হয়। সাধারণত গ্যাসের চুলিতেই ভোগ রান্না করা হয়ে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি গ্যাসের সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে বাধ্য হয়ে কাঠ ও কয়লার আগুনে ভোগ রান্না করা হচ্ছে। সেই কারণে রান্নার পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি ভোগের মেনুতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নোটিশে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভোগে কোনও ধরনের ভাজাভুজি রাখা সম্ভব নয়।

রাধাবল্লভ মন্দির শ্রীরামপুরের অন্যতম প্রাচীন ও পরিচিত ধর্মীয় স্থান। প্রতিদিন বহু ভক্ত এখানে ভোগ গ্রহণ করতে আসেন। গ্যাসের সঙ্কটের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্ধ রাখা হচ্ছে নৈহাটির বড়মা’র মন্দিরে নিঃশুল্ক ভোগ প্রসাদ বিতরণ। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আগামী সোমবার ১৬ মার্চ থেকে এই পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

প্রতি সপ্তাহে সোমবার, বুধবার ও শুক্রবার বড়মার মন্দিরে বসে প্রায় ৭০০ জন ভক্তকে নিঃশুল্ক ভোগ প্রসাদ খাওয়ানো হয়। পাশাপাশি শনিবার ও মঙ্গলবার প্রায় ৩০০০ ভক্তকে বিনামূল্যে ভোগ প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

কিন্তু হঠাৎ করে রান্নার গ্যাসের  এই পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যাওয়ায় এই বৃহৎ আয়োজন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। ফলে অনিচ্ছাকৃত সত্ত্বেও ভক্তদের জন্য এই পরিষেবা আপাতত স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।

মন্দির কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছেন, গ্যাস সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি দূর হয়ে গেলেই পুনরায় ভোগ প্রসাদ বিতরণের কর্মসূচি আগের মতোই শুরু করা হবে। ততদিন পর্যন্ত ভক্তদের সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।