আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এবার খোদ বেলুড় মঠের সন্ন্যাসীদের ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে দানা বাঁধল তীব্র বিতর্ক।

মঠের ৯১ জন সন্ন্যাসীর নাম বর্তমানে 'বিচারাধীন'  তালিকায় রাখা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাওড়া জেলার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপানউতোর।

নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাগযুদ্ধ চরমে উঠেছে। সন্ন্যাসীদের নাগরিকত্ব বা পরিচয় নিয়ে এই ধরনের যাচাইকরণ প্রক্রিয়াকে অপমানজনক বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

ব্যাপারে  হাওড়া সদর যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি কৈলাস মিশ্র তীব্র নিন্দা করে বলেন, "বেলুড় মঠ স্বামীজীর পুণ্যভূমি। সেখানকার প্রায় ১০০ জন সন্ন্যাসীকে বিচারাধীন বলে দেখানো হয়েছে। তাঁরা কি রোহিঙ্গা না কি বাংলাদেশি? তাঁরা সন্ন্যাসী।  তাঁদের সম্মান সবার আগে। বিজেপি দাবি করে তারা না কি হিন্দু ধর্ম রক্ষা করছে। তাহলে এই হিন্দু সন্ন্যাসীদের এই ধরনের বিরম্বনায় ফেলে দেওয়া কেন?এর পাশাপাশি আরও একটা বলতে চাই সন্ন্যাসীদের এই অপমানের জন্য কেউ কমিশনকেও ক্ষমা করবে না।"

 অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য বিষয়টিকে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখছেন। তিনি জানান, "এটি সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের বিষয়। তবে আমার স্পষ্ট বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতেই হবে। একজন বৈধ ভোটারের নামও যেন বাদ না যায়। 'নো এসআইআর, নো ভোট'—এই নীতিতেই স্বচ্ছতা বজায় রাখা উচিত।"

রামকৃষ্ণ মিশনের মতো একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানের সন্ন্যাসীদের পরিচয় নিয়ে এই টানাপোড়েন সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে বলে মত বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরগুলির। ভোটের আগে এই ইস্যু যে হাওড়ার জেলা রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক জন্ম দেবে, তা নিয়ে নিশ্চিত জেলার রাজনৈতিক মহল।