আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় ভোলবদল। বিরাট সংস্কারের পথে হাঁটল নতুন সরকার। এবার থেকে কলকাতার প্রথম সারির বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।
২০১৭ সালের ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিকাল এস্টাব্লিসমেন্ট অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালের ইনডোর বা অভ্যন্তরীণ বিভাগের ১০ শতাংশ শয্যা এবং আউটডোর বা বহির্বিভাগের ২০ শতাংশ চিকিৎসা সাধারণ নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে বরাদ্দ করা বাধ্যতামূলক।
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে এই আইন খাতায়-কলমে থাকলেও, তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ। অবশেষে সেই আইনকেই কঠোরভাবে বাস্তবায়িত করতে তৎপর হয়েছে রাজ্যের নতুন স্বাস্থ্য দপ্তর।
স্বাস্থ্য ভবন সূত্রের খবর, প্রাথমিক দফায় কলকাতার ১৭টি বড় বেসরকারি হাসপাতালকে এই নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে। এই হাসপাতালগুলির মোট শয্যা সংখ্যা ৬,৫৭৩।
নিয়মানুযায়ী, তার ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৬৬০টি বেড ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কোন হাসপাতালে কত বেড সংরক্ষিত হচ্ছে।
১. অ্যাপোলো হসপিটাল- মোট বেড ৭৫০ । সংরক্ষিত বেড ৭৫।
২. আইআইএনকে- মোট বেড ২১০। সংরক্ষিত বেড ২১।
৩. আইসিএইচ -মোট বেড ২০৫। সংরক্ষিত বেড ২১।
৪. ইসলামিয়া হসপিটাল -মোট বেড ২০০। সংরক্ষিত বেড ২০।
৫. মণিপাল (ইএম বাইপাস) -মোট বেড ১৫৬। সংরক্ষিত বেড ১৬।
৬. ডিসান হসপিটাল -মোট বেড ৫১৩। সংরক্ষিত বেড ৫১।
৭. কেপিসি মেডিক্যাল কলেজ -মোট বেড ১০৫৫। সংরক্ষিত বেড ১০৬।
৮. মেডিকা হসপিটাল -মোট বেড ৫০০। সংরক্ষিত বেড ৫০।
৯. রুবি জেনারেল হসপিটাল -মোট বেড ৩৯৬। সংরক্ষিত বেড ৪০।
১০. ফর্টিস হসপিটাল -মোট বেড ৩৩০। সংরক্ষিত বেড ৩৩।
১১. নারায়ণা হসপিটাল -মোট বেড ৬৮১। সংরক্ষিত বেড ৬৮।
১২. মণিপাল হসপিটাল (ইস্ট ইন্ডিয়া প্রঃ লিঃ)- মোট বেড ১৬১। সংরক্ষিত বেড ১৬।
১৩. শ্রী অরবিন্দ সেবা কেন্দ্র -মোট বেড ১৫৫। সংরক্ষিত বেড ১৬।
১৪. নেওটিয়া ওমেন অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার -মোট বেড ১১০। সংরক্ষিত বেড ১১৷
১৫. বিপি পোদ্দার হসপিটাল -মোট বেড ৩০৫। সংরক্ষিত বেড ৩১।
১৬. পিয়ারলেস হসপিটাল -মোট বেড ৬৬৬। সংরক্ষিত বেড ৬৭।
১৭. মণিপাল হসপিটাল -মোট বেড ১৮০। সংরক্ষিত বেড ১৮।
"পূর্বের সরকার রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ সর্বনাশ করে দিয়ে গেছে। সবটাই নরককুণ্ড বানিয়ে রেখে দিয়েছিল। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব একটা সুন্দর ও সুস্থ পরিকাঠামো গড়ে তুলতে, যাতে সাধারণ মানুষ প্রকৃত পরিষেবা পান। তবে এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগবে।" আজকাল ডট ইন-কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্বরদ্বত মুখোপাধ্যায় এমনটাই জানিয়েছেন।
অভিযোগ, অতীতে এই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গরিব ও মধ্যবিত্তের প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা ভোগ করতেন তৎকালীন শাসকদলের প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রীরা।
ফলে সাধারণ রোগীরা বেসরকারি হাসপাতালের ব্যয়বহুল চিকিৎসা থেকে বঞ্চিতই থেকে যেতেন। নতুন সরকারের দাবি, এই দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের চিকিৎসাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জনমুখী করতেই এই কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে।















