রিয়া পাত্র

 রাজ্যসভায় তিন আসনে উপনির্বাচন। তৃণমূলের রক্তক্ষরণের মাঝেই, ১০ জুন সাংসদ পদ ছাড়েন সুস্মিতা দেব। সুস্মিতা দেবের মেয়াদ ছিল ২ এপ্রিল ২০৩০ পর্যন্ত। সুস্মিতার আগে এবং পরে, সুখেন্দু শেখর রায় ৮ জুন প্রকাশ চিক বরাইক ১১ জুন পদত্যাগ করেন। ওই তিন আসনে, ২৪ জুলাই ভোট গ্রহণ। দিনক্ষণ সামনে আসতেই, জল্পনা ছড়ায়, তৃণমূল কী করবে এবার? কারণ, রাজ্যসভার ভোট পুরোটাই নির্ভর করে সংখ্যা এবং ফর্মুলার উপর। ফলে  কত আসনে ভোট এবং রাজ্যে কোনও দলের আসন সংখ্যা বড় একটা ফ্যাক্টর এই ভোটে। 

বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য যেমন এই পরিস্থিতি সম্পর্কে আজকাল ডট ইন-কে বলেন, যেহেতু তিনটে আসনে উপনির্বাচন হবে, তাতে হিসেব অনুযায়ী এক আসন জিততে যে সংখ্যা দরকার, এই মুহূর্তে তা কোনও বিরোধী দলের কাছেই নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও শিবিরের কাছেও নেই। ৮০ তৃণমূল বিধায়ক একসঙ্গে থাকলে তাও ভাবার অবকাশ ছিল। কিন্তু এখানে যেহেতু ২০৭ বিধায়ক বিজেপির সঙ্গে, ফলে গেরুয়া শিবির অনায়াসে জিতে যাবে তিন আসনই। সেক্ষেত্রে বিরোধী কোনও দল বা শিবির প্রার্থী দিলেও, জেতার আশা নেই।

রাজ্যসভায় এখন মোট আসন ২৪১। এনডিএ-এর সাংসদ ১৫২। এই উপনির্বাচনে তিন আসন বিজেপির ঝুলিতে গেলে, স্বাভাবিকভাবেই শক্তি বাড়বে পদ্মবনের। সেক্ষত্রে, যে কোনও বিল পাশ করানোর জন্য যে ১৬৪ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন, সেদিকে আরও খানিকটা এগিয়ে যাবে এনডিএ।

কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস কী ভাবছে এই উপনির্বাচন নিয়ে? কোন শিবির প্রার্থী দেবে? নাকি দেবে না কোনও শিবিরই? প্রার্থী প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী  দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি বলছেন, 'আজ নোটিফিকেশন হয়েছে। তিনজন পদত্যাগ করেছেন, তাঁদের মেয়াদ এখনও অনেকটা বাকি। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই উপনির্বাচন হবে। কিন্তু, বিধানসভার যে সংখ্যার বিন্যাস, তাতে অল ইন্ডিয়া  তৃণমূল কংগ্রেসের তিন আসনে ভোট হলে, জেতার কোনও পরিস্থিতি নেই। পুরোটাই সংখ্যার উপর নির্ভর করে। ফলে আমরা নির্বাচনের বিষয়টি দেখেছি, কিন্তু আমাদের কাছে সেই সংখ্যা নেই যে, আমরা প্রার্থী দেব। ফলে প্রার্থী দেওয়ার প্রশ্ন নেই।'