কৌশিক রায়ঃ  লম্বা লাইন, সার দিয়ে পরপর দাঁড়িয়ে আছে গাড়ি। বিগত কয়েক মাসে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাওয়ার পথে রাস্তার ছবিটা কতকটা এরকমই। দার্জিলিং ঢোকার মুখে মূলত দেখা যাচ্ছে ট্রাফিক জ্যাম। গত কয়েক মাসে প্রচুর পর্যটক গিয়েছেন পাহাড়ে। সেক্ষেত্রে, যাঁরা শিলিগুড়ি বা জলপাইগুড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে ওপরে ওঠেন, তাঁদের খুশি হওয়ারই কথা। কিন্তু এই ট্রাফিক জ্যামের জন্য ব্যবসায় বিপুল ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন অনেকেই।

শিলিগুড়ি হয়ে দার্জিলিং যাওয়ার মূলত দু'টি রাস্তা সবথেকে চালু। প্রথমটা হল রোহিণী হয়ে। শিলিগুড়ি থেকে এই রাস্তা ধরে দার্জিলিং পৌঁছতে সময় লাগার কথা আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। দ্বিতীয়টা হল ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে কার্শিয়াং, ঘুম হয়ে দার্জিলিং। এই রাস্তায় গাড়িতে সময় লাগার কথা সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা। কিন্তু সম্প্রতি ব্যাপক যানজটের জেরে সেই সময় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ছয়, সাত কখনও আট ঘণ্টাতেও। ভোরবেলা নিউ জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি নেমে দার্জিলিংয়ের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন তাঁদের পৌঁছতে দেড়টা কিংবা দুটো বেজে যাচ্ছে। ফলে, যে সমস্ত চালকরা বেশি করে টিপ মারার সুযোগ পেতেন তাঁরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তবে খুশির খবর হল শীঘ্রই এই ট্রাফিক জ্যামের সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। সম্প্রতি, বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্সের সঙ্গে বৈঠক ছিল দার্জিলিংয়ের ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতিদের। উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে শিলিগুড়ি এবং দার্জিলিংয়ে দু'দিনের বিশেষ কনক্লেভ আয়োজন করেছিল বিএনসিসিআই। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপও। দার্জিলিংয়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অজয় এডওয়ার্ড। তিনি নিজেই এই যানজটের সমস্যার প্রসঙ্গ তোলেন।

এডওয়ার্ড বলেন, "সাত ঘণ্টা, আট ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে দার্জিলিং পৌঁছতে। মানুষ বিমানে করে দু'ঘণ্টায় বাগডোগরা চলে আসছেন। তারপর আড়াই ঘণ্টার রাস্তা আট ঘণ্টায় আসছেন। এভাবে চলতে থাকলে পর্যটকের সংখ্যা কমতে থাকবে।"

কিন্তু উপায় কী? এডওয়ার্ডের কথায়, "দার্জিলিংয়ের রাস্তাগুলোর ওপর চাপ কমাতে হবে। যাঁরা বিনিয়োগ করতে চান, তাঁদের উচিত স্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠকে বসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা। যদি বিকল্প রাস্তা বের করা যায় তাহলেই এই যানজট থেকে মুক্তি মিলবে।" এর পাশাপশি দার্জিলিংকে ব্যবসার জন্য সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত ও বিনিয়োগবান্ধব করে তোলার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।  

তিনি বলেন, "দার্জিলিং দীর্ঘদিন ধরে সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত। ব্যবসা, শিল্প ও কর্মসংস্থানের প্রসারের মাধ্যমে পাহাড়ের তরুণ প্রজন্মের জন্য উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে। দরকার পড়লে প্রয়োজনীয় ট্রেড লাইসেন্স-সহ অন্যান্য অনুমোদন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।"

তিনি জানান, গত ৪০ বছর ধরে দার্জিলিং অশান্তি ও ভয়ের পরিবেশের মধ্যে কাটিয়েছে। বৃহত্তর কোনও উদ্দেশ্যের জন্য নয়, বরং নিজেদের স্বার্থে কিছু নেতা পাহাড়ের মানুষের মনে ভয় তৈরি করেছেন। দার্জিলিংয়ের এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অর্থ, মূলধন এবং নতুন বিনিয়োগ।