আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাঝে চলে গিয়েছে অনেকগুলি বছর। সেদিনের সেই জমি আন্দোলন এবং তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি আজ এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। শিল্পের জন্য 'গায়ের জোর'-এ নেওয়া সেই জমি আদালতের নির্দেশে আজ ফেরত পেয়েছেন কৃষকরা। সময় এগিয়ে গিয়েছে অনেকটাই। কিন্তু তাঁর আন্দোলনের ঝাঁঝ কমেনি এতটুকুও। সেজন্যই বুধবার সিঙ্গুরে সভা করতে এসে মমতা বুঝিয়ে দিলেন সেদিন রাজনীতির ময়দানে তিনি যেমন এতটুকু জমিও সিপিএমকে ছাড়েননি তেমনি এরাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনেও ছাড়াছাড়ির কোনো প্রশ্নই নেই। 

মাত্র কয়েকদিন আগেই সিঙ্গুরে সভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি। উঠেছে শিল্পের প্রসঙ্গও। সেদিনের সেই প্রস্তাবিত 'ন্যানো' গাড়ির কারখানা আজ অতীত। কিন্তু এদিন সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে মমতা জানিয়ে দিলেন তিনি সিঙ্গুরে কৃষি এবং শিল্পের সমান্তরাল এগিয়ে চলা দেখতেই পছন্দ করেন। যার জন্য জানালেন, সিঙ্গুরে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক যেমন গড়ে তোলা হয়েছে তেমনি বেসরকারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে চলেছে। পরিশেষে সংযোজন করলেন, "কৃষি এবং শিল্প দুই চলবে।" বাম আমলে অভিযোগ উঠেছিল কৃষি জমি গায়ের জোরে কেড়ে নিয়ে শিল্প স্থাপন করতে চাইছে সরকার। কিন্তু  এদিন মমতা তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ফের বুঝিয়ে দিলেন শিল্পের জন্য গায়ের জোরে তিনি কোনো জমি কাড়তে ইচ্ছুক নয়। 

যে সিঙ্গুর আন্দোলন গোটা রাজ্যেই বামেদের ভিত নাড়িয়ে দিয়ে তৃণমূলের ঝান্ডাকে শক্ত জমিতে পুঁতে দিয়েছিল এদিন সিঙ্গুরের ইন্দ্রখালি এলাকায় জনসভা করতে এসে সেই আন্দোলনকেই স্মরণ করলেন মমতা। জানালেন, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সিঙ্গুরের আন্দোলন একটি 'বড় আন্দোলন।' কৃষিজমি ফেরতের দাবিতে তাঁর টানা অনশন এবং সেদিনের সেই আন্দোলনে সিঙ্গুরবাসীর সহযোগিতা নিয়ে বলতে গিয়ে মমতা বলেন, "২৬ দিন অনশন করেছি। রাস্তায় পড়ে থেকেছি। এখানকার লোকেরা তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী আমাদের খাবার দিয়েছেন।" জমি আন্দোলনের শহিদ তাপসী মালিক-এর নাম স্মরণ করে সিঙ্গুরবাসীর উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, আপনারাই আমার চেতনা, অনুপ্রেরণা। তাঁর কথায়, "সিঙ্গুরের জন্য আমি মরতে প্রস্তুত ছিলাম।" 

তবে এদিনের বক্তব্যে বাংলার ১০০ দিনের কাজ বা অন্যান্য প্রকল্পের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের 'বঞ্চনা'র পাশাপাশি যে বিষয়টি তিনি বারবার তুলে ধরেছেন তা হল এসআইআর এবং সেই নিয়ে সাধারণের 'ভোগান্তি'। মঞ্চে দাঁড়িয়ে এসআইআর নিয়ে নিজের রচিত কবিতা যেমন পাঠ করেছেন তেমনি শোক জ্ঞাপন করেছেন এসআইআর জনিত কারণে যে সমস্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তাঁদের প্রতি। বার্তা দিয়েছেন কোনওভাবেই ভয় না পেয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, "একদিন তো দিল্লি যাব। প্রয়োজনে আদালতে সওয়াল করব।" পাশাপাশি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "বাংলায় কথা বললে আপনারা মারছেন আর বাংলা দখল করবেন!" বিজেপির উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, "আমাকে রোখার সাধ্য আপনাদের নেই।"

বুধবার সিঙ্গুরের এই মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এদিন অন্যান্যদের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেচ ও জলপথ বিভাগ এই প্রকল্প কার্যকর করবে। এছাড়াও 'বাংলার বাড়ি'  প্রকল্পের জন্য কিস্তির টাকা দেওয়া ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। সেইসঙ্গে আশা ও আইসিডিএস কর্মীদের ধৈর্য্য ধরার কথা বলে তিনি জানান, আনন্দপুর এলাকায় মৃতদের পরিবারের একজনকে সিভিক ভলান্টিয়ার-এর কাজ দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।