আজকাল ওয়েবডেস্ক: জমির চরিত্র পরিবর্তন করে বাড়ি তৈরি করার মামলায় এবার পুলিশের নোটিস পেলেন  'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান তথা ওই দলের প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের পত্নী মীরা সুলতানা। প্রসঙ্গত, হুমায়ুন তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জিতে বিধায়ক হলেও দল বিরোধী কাজের জন্য তাঁকে তৃণমূল সাসপেন্ড করেছে। 

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার হুমায়ুন পত্নীকে পুলিশের তরফ থেকে নোটিস পাঠিয়ে বুধবার বেলা বারোটায় শক্তিপুর থানায় এই মামলার তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।  যদিও 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন,"আমার স্ত্রী নোটিস গ্রহণ করেছেন, কিন্তু পুলিশের কাছে হাজিরা দেওয়ার কোনও প্রশ্নই উঠছে না। আমরা গোটা বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করব।"
 
হুমায়ুন কবীর জানান, "পশ্চিমবঙ্গ ভূমি রাজস্ব আইনের ৪(ডি) ধারায় গত ৫ মার্চ শক্তিপুর থানা পুলিশের তরফ থেকে একটি 'সুয়ো মোটো'  মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশ আমার বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীর হাতে নোটিস ধরিয়ে এসেছে এবং বুধবার দুপুর বারোটার সময় শক্তিপুর  থানায় তদন্তকারী আধিকারিকের  সামনে হাজিরার জন্য বলা হয়েছে।"
যদিও শক্তিপুর থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন , পুলিশ হুমায়ুন পত্নীর বিরুদ্ধে কোনও 'সুয়ো মোটো' মামলা রুজু করেনি। বেলডাঙা-২ ব্লকের ভূমি ,ভূমি রাজস্ব আধিকারিকের তরফে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশের তরফে মামলা রুজু করা হয়েছে। 

 

হুমায়ুন বলেন,"শক্তিপুর থানার মানিক্যহার গ্রামে যে জমির উপর বাড়ি তৈরি করা নিয়ে বিতর্ক সেখানে আমি পরিবার নিয়ে প্রায় ১৮ বছর বসবাস করছি। এতদিন পুলিশ প্রশাসনের  আমার বাড়ি নিয়ে কোনও মাথা ব্যাথা ছিল না। আমি নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করার পর  কখনও  ভূমি রাজস্ব দপ্তরের তরফ থেকে আমার স্ত্রীকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে , কখনও বা পুলিস মামলা রুজু করে আমার স্ত্রীকে নোটিস পাঠাচ্ছে। গোটাটাই আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করার চক্রান্ত।"


 
ভূমি রাজস্ব আইনের ৪(ডি) ধারায় কোনও ব্যক্তি বেআইনিভাবে জমির চরিত্র পরিবর্তন করে সেখানে কোনও নির্মাণ করলে তাঁর তিন বছর পর্যন্ত জেল এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। 

 

হুমায়ুন কবীর জানান,"২০০২ সাল নাগাদ আমি শক্তিপুর এলাকার বাসিন্দা ঠাকুর পরিবারের কাছ থেকে ওই জমি কিনে নিয়েছিলাম। জমির চরিত্র সে সময় 'নালা' প্রকৃতির ছিল। একাধিকবার আমি সরকারি দপ্তরের জমির চরিত্র পরিবর্তন করার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা জমা দিয়ে আবেদন করেছি। কিন্তু  দীর্ঘ আবেদন নিবেদন করেও কোনও  কাজ হয়নি।"

 

হুমায়ুনের দাবি, প্রায় ৩ শতক জমির উপর তাঁর বাড়ি। ভূমি দপ্তরের তরফ থেকে সম্প্রতি দু'শতক জমির চরিত্র পরিবর্তন করে তা 'ভিটে' করা হয়েছে। কিন্তু  বাকি জমির চরিত্র এখনও 'নালা' প্রকৃতিরই রয়ে গিয়েছে।


 
প্রসঙ্গত সাম্প্রতিক সময়ে মাদক বিক্রির টাকায় বেআইনিভাবে সম্পত্তি তৈরি করার অভিযোগে  লালগোলা থানার পুলিশ হুমায়ুন কন্যা নাজমা সুলতানা এবং তাঁর শ্বশুরবাড়ির প্রায় ১৫ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। ইতিমধ্যে হুমায়ুনের জামাই রাইহান আলি এবং হুমায়ুন কন্যার শ্বশুর শরিফুল ইসলামের একাধিক সম্পত্তি পুলিশ 'ফ্রিজ' করে রেখেছে। এর পাশাপাশি মাদক পাচারের একটি মামলায় লালগোলা থানার পুলিশ  হুমায়ুনের জামাই রাইহান আলিকে নোটিসও পাঠিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন করে হুমায়ুনের বিপদ বাড়ল তাঁর স্ত্রীকে পাঠানো পুলিশের এই নোটিসে।

 


হুমায়ুন বলেন "মাণিক্যহার গ্রামের বাড়িতে আমি ২০০৭ সাল থেকে বসবাস করছি। ১৮ বছর কি প্রশাসন ঘুমাচ্ছিল?আমি যেমন ভূমি দপ্তরের নোটিসের জবাব দিইনি তেমনি পুলিশের নোটিস নিয়েও কিছু করব না।  যা পারে করে নিক। যদি আমার বাড়ি কেউ আসে তাঁকে বুঝে নেব।"