মিল্টন সেন: জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কোনও আপোষ নয়। শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেন উত্তরপাড়ার বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন এনএসজি কমান্ডো দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। এদিন দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন তিনি। দীপাঞ্জন বাবু বলেন, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়ের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে ভারত নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। 

বিশ্বমঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তৈরি করেছে।তিনি বলেছেন, অতীতে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতকে অনেকাংশে বিদেশি প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের উপর নির্ভরশীল ছিল। অতীতে সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ভারতকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে কেন্দ্র সরকার জমি চাইলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সীমান্ত নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর সামনে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— নেশান ফাস্ট, নো কম্প্রোমাইজ। দেশের স্বার্থই সর্বাগ্রে।” এদিন তিনি আরও বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জওয়ানদের মর্যাদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। 

প্রাক্তন সেনাকর্মী হিসেবে নিজের গর্বের কথা উল্লেখ করে দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ভারত বর্তমানে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে সক্ষম। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভারতীয় সেনার ভূমিকা প্রশংসনীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিন দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে বিধায়ক বলেছেন, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা। দুর্গাপূজা শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়। এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আবেগের সঙ্গে জড়িত। ২০১১ সালের আগেও রাজ্যের মানুষ উৎসাহ ও জাঁকজমকের সঙ্গে দুর্গাপূজা পালন করতেন। 

সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই ২০২৬ সালেও দুর্গোৎসব আরও বড় আকারে অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি অনুদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পুজো কমিটিকে সরকারি সাহায্য দেওয়া হয়ে আসছে। তবে যেসব বড় বাজেটের পুজো কমিটি, আর্থিকভাবে সক্ষম। তাদের ক্ষেত্রে অনুদান দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। আর যেসব পুজো কমিটি মূলত সরকারি অনুদানের উপর নির্ভরশীল, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলে। এতে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পুজো কমিটিগুলি বেশি উপকৃত হবে।