মিল্টন সেন: তীব্র রোদ-গরম উপেক্ষা করে ‘জনকল্যাণ শিবিরে’ কয়েক হাজার মানুষ। রাজ্য সরকারের কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ। 

সোমবার সকাল থেকে গোটা রাজ্যের মতো জেলা জুড়ে চলছে শিবির। ১৫ থেকে ১৭ জুন, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে ক্যাম্প। পান্ডুয়ার বৈঁচিগ্রাম বিএল স্কুলে পাঁচটি অঞ্চলের জন্য একসঙ্গে শিবির করা হয়েছে। স্কুল চত্বরে সকাল থেকেই লম্বা লাইন। অনেকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে খুশি। 

এদিন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ও জব কার্ডের ফর্ম নিতে আসা রুমা মুখার্জি বলেছেন, আগে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করেছিলেন। অ্যাক্টিভ দেখাচ্ছিল না। এখান থেকে ফর্ম নিয়ে দেখবেন, সেটা হচ্ছে কিনা। প্রচন্ড গরম, তবু পরিষেবা পাচ্ছেন। আবার, পিএম কিষাণ ও মুদ্রা লোনের ফর্ম নিতে এসেছেন পিংকি সোম রায়। তাঁর কথায়, প্রথম দিন, তাই ভিড় খুব। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, পিএম কিষাণ, মুদ্রা লোন - সব ফর্মই তিনি নিয়েছেন। 

এদিকে চাপদানীতে জনকল্যাণ শিবিরে ভিড়, লাইন সামলাতে হিম সিম অবস্থা। নিজেই মাইক ধরে লাইন সামলালেন বিধায়ক। সকাল থেকে শিবিরে ভিড় জমিয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। সরকারের কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ। চাপদানীর বিধানসভার মোট ছয়টি জায়গায় এই শিবির করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিবির রয়েছে চাপদানীর পুরসভায়। 

সকাল থেকেই সেখানে পড়েছে লম্বা লাইন। ভিড় সামাল দিতে এবং সুষ্ঠ পরিষেবা পৌঁছে দিতে শিবিরে হাজির হন চাপদানীর বিধায়ক দিলীপ সিং। ভিড় সামলাতে নিজেই মাইকিং করেন।  

অন্যদিকে, জনকল্যাণ শিবিরে অব্যবস্থা, অন্তরঘাতের অভিযোগ তুলেছেন খোদ উত্তরপাড়ার বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ, উত্তরপাড়া পুরসভার পুরপ্রধান এবং এক্সিকিউটিভ অফিসারের বিরুদ্ধে। বিধায়ক জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে ঘটনা জানাবেন। 

সোমবার উত্তরপাড়া পুরসভা এলাকাতেও চলছে জনকল্যাণ শিবির। শিবির করা হয়েছে পুরসভার মনিন্দ্র ভবনে। সেখানে প্রচন্ড গরমে প্রয়োজনীয় জলের ব্যবস্থা নেই। শিবিরে এসে অব্যবস্থার ছবি দেখে ক্ষিপ্ত বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, উত্তরপাড়ার চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব এবং এক্সিকিউটিভ অফিসার ঠান্ডা মাথায় ভেবে চিন্তে অন্তরঘাত করেছেন। 

কোন্নগর পুরসভায় খুব সুন্দর ব্যবস্থা হয়েছে। অনেক বেশি লোক রয়েছে কোন্নগরে। অথচ সেখানে অনেক ভালো ব্যবস্থা, সেই উত্তরপাড়ায় যেকোনও মুহূর্তে মানুষ অসুস্থ হ়ে পড়তে পারে। পুরসভার চেয়ারম্যানের মোবাইল সুইচড অফ। দশবার ফোন করার পর এক্সিকিউটিভ অফিসার এসেছেন। বোঝাই যাচ্ছে সবটা তাঁরা জেনে বুঝে করেছেন। জলের ব্যবস্থা নেই বয়স্ক মানুষদের বসার ব্যবস্থা নেই। সরকারকে বদনাম করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে বদনাম করার জন্য এই চেষ্টা। তিনি লিখিতভাবে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে বিষয়টি জানাবেন। দাবি করবেন অবিলম্বে চেয়ারম্যান এবং এক্সিকিউটিভ অফিসার কে বরখাস্ত করার। 

হুগলি চুঁচুড়া পুরসভার তিরিশটি ওয়ার্ডের জন্য তিনটি শিবির খোলা হয়েছে। শিবির গুলোতে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব গিয়ে মানুষকে সাহায্য করেন। এদিন বিজেপি নেতা সপ্তর্ষী ব্যানার্জি বলেন, মানুষের পরিষেবা দেওয়ার জন্য জনকল্যাণ শিবির চালু হয়েছে। মানুষ পরিষেবা নিতে আসছেন। তিন দিনের শিবিরে না হলে সময় বাড়ানো হতে পারে। প্রশাসনের তরফে ভিড় সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ।

 

ছবি: পার্থ রাহা।