আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইদের সকালে ভেঙে পড়ল ইংরেজবাজার শহরের নেতাজি কমার্শিয়াল মার্কেটের ছাদ। চাপা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু নৈশপ্রহরীর। আহত আরও এক। ব্যবসায়ী সংগঠনের অভিযোগ বহু পুরনো এই মার্কেট সংস্কারের আবেদন বারবার জানানো হয়েছিল পুরসভা এবং প্রশাসনকে। কিন্তু সংস্কার করা হয়নি। যার ফলে শনিবার ভোরে ছাদ ভেঙে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত থেকে বৃষ্টি হয় মালদায়। আর শনিবার সকালে ওই মার্কেটের এক অংশের ছাদ ভেঙে পড়ে। জানা গেছে, এই ঘটনায় মিন্টু সরকার নামে মার্কেটের নৈশপ্রহরীর মৃত্যু হয়েছে। দীপ সর্দার নামে এক সুইপার আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরি। এছাড়া উপস্থিত হন মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক উত্তম বসাক সহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতৃত্ব ও বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা।
ব্যবসায়ী নৃপেন্দ্র কুমার শুক্লা বলেন, ‘আমাদের এই বাজারের মধ্যেই দোকান রয়েছে। আমরা খুব চিন্তিত। ১৯৭০ সালের আগে তৈরি হয় এই মার্কেট। তারপর আর কোনও সংস্কার হয়নি। আগামী দিনে সংস্কার হওয়ার কথা রয়েছে। ব্যবসা করতে খুবই ভয় লাগে। শুক্রবার অতিবৃষ্টির ফলে ছাদটা এমনি ড্যাম হয়ে গেছিল। পুরোপুরি বসে গেছে। যতটা জানি একজন আহত হয়েছে। আর একজন মারা গিয়েছেন।’
মালদার মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক উত্তম প্রসাদ জানান ‘নেতাজি পুর বাজার নেতাজি কমার্শিয়াল মার্কেট। ২০১৮ সালে জেলাশাসককে জানিয়েছিলাম এটা ড্যামেজ বিল্ডিং। বলা হয়েছিল অতি শীঘ্রই এই বিল্ডিংটি ভাঙা হবে। যেকোনও সময় চাঙর খুলে খুলে পড়ছে। যেকোনও সময় বড়সড় দুর্ঘটনা হতে পারে। কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেয়নি। শুনেছি মন্টু সরকার নামে এক নাইট গার্ড চাপা পড়ে মারা গিয়েছেন। তার পাশাপাশি ইংরেজবাজার পুরসভার এক সাফাই কর্মী আহত হয়েছেন। আমরা ইংরেজবাজার পুরসভাকেও বিষয়টি জানিয়েছি। যাতে মার্কেটটি দ্রুত ভাঙা হয়। কিন্তু ইংরেজবাজার পুরসভা কোনও দায়িত্ব নিচ্ছে না। যেকোনও সময় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’
ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘অনেকদিন আগেই বিল্ডিংটিকে ড্যামেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। শুক্রবার রাতের বৃষ্টিতে হঠাৎ করে ছাদের একাংশ ভেঙে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে ও একজন আহত হয়ে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ইতিমধ্যে উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। যে মারা গেছে তাঁর ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
