আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে উদ্ধার হল হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের সন্তোষপুর মান্না পাড়া এলাকার বাসিন্দা দুর্গা মণ্ডলের (৫৫) পচাগলা মৃতদেহ। শুক্রবার সকালে নিজের বাড়ির তালাবন্ধ ঘর থেকে তাঁর নগ্ন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদেহের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং মুখে সাঁড়াশি ঢোকানো থাকায় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই প্রাথমিক অনুমান স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গার স্বামী প্রায় দুই বছর আগে মারা গিয়েছেন। তাঁর ছেলে কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে থাকেন। কাছেই মেয়ের বাড়ি হলেও দুর্গা দেবী একাই ওই বাড়িতে থাকতেন। গত সোমবারের পর থেকে তাঁকে এলাকায় আর দেখা যায়নি। শুক্রবার বাড়ির ভিতর থেকে পচা দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। খবর দেওয়া হয় জগৎবল্লভপুর থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে বাড়ির সদর দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকতেই দেখা যায় দুর্গা দেবীর নগ্ন,  বীভৎস অবস্থায় দেহ পড়ে রয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা দুধকুমার মালিক জানান, “ঘর বাইরে থেকে তালা বন্ধ ছিল, অথচ ভেতর থেকে উৎকট গন্ধ আসছিল। ৫-৬ দিন ধরে ওঁনার কোনও দেখা মিলছিল না। যেভাবে দেহটি উদ্ধার হয়েছে, তাতে আমাদের নিশ্চিত ধারণা ওঁনাকে খুন করা হয়েছে।"

মৃতার মেয়ে শ্রাবন্তী পাত্র কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, “গত সোমবার শেষ বার মায়ের কাছে এসেছিলাম। তারপর থেকে ফোনে আর যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। চিন্তায় পড়ে পাড়ার লোকেদের ফোন করি। তাঁরাই জানান বাড়ি তালাবন্ধ। আজ এসে এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখতে হল। কেউ আমার মাকে নৃশংসভাবে খুন করে পালিয়ে গিয়েছে।"

পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। দেহের পরিস্থিতি এবং মুখে সাঁড়াশি ঢোকানোর ধরণ দেখে তদন্তকারীরা মনে করছেন, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনও উদ্দেশ্যে এই খুন করা হয়েছে। বাইরের তালাটি খুনিই লাগিয়ে দিয়ে গিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।