আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাম্প্রতিকসময়ে একাধিকবার, রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে উঠে এসেছে অভিযোগ। অভিযোগ, ভিন রাজ্যে গিয়ে বাংলায় কথা বলার অপরাধে, বাংলাভাষী হওয়ার অপরাধে অত্যাচার, হেনস্থা, খুন করা হচ্ছে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের। অতি সম্প্রতি সামনে এসেছে ঝাড়খণ্ড, ওড়িশার ঘটনা। এবার ফের একই অভিযোগ। পরিবারের অভিযোগ, কোচবিহারের শীতলকুচির পরিযায়ী শ্রমিককে খুন করা হয়েছে অসম-অরুণাচল সীমান্তে। 


ওই যুবকের নাম হিমাঙ্কর পাল। বয়স ৩৪। শীতলকুচি ব্লকের কুশরামারি গ্রামের বাসিন্দা ওই যুবক এর আগেও দীর্ঘ সময় ধরে অরুণাচলপ্রদেশে কাজ করতেন। ফিরে এসেছিলেন ঘরে। তারপরে ফের কাজ খোঁজার জন্য যান বলে জানা গিয়েছে। হিমাঙ্কর বাবা জানিয়েছে, ছেলের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছিল। ছেলে জানিয়েছিলেন, তাঁকে বাসের চালক মারধর করছে। টাকা চাইছে বলেও জানান। হিমাঙ্কররের বাবা জানিয়েছেন, ছেলের কথা শুনে টাকাও পাঠান তাঁরা। কিন্তু কেন টাকা চাওয়া হচ্ছে, সেই পরিস্থিতিতে তা বিস্তারিত জানতে পারেননি। এই ঘটনা ঘটে শনিবার রাতে। তারপরে আর হিমাঙ্করের সঙ্গে কথা হয়নি বলেই খবর পরিবার সূত্রে।

হিমাঙ্কররের বাবা  জানান, 'ও আমাকে ফোনে পরিষ্কারভাবে বলে আমাকে মারছে ড্রাইভার, গলা টিপে ধরছে। ড্রাইভারকে ছাড়বে না। উপযুক্ত বিচার করবে। এর পরেই ফোন বন্ধ হয়ে যায়।'  অসমের গোয়ালপাড়া এলাকায় তাঁকে মারধোর করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। রবিবার পরিবারের কাছে ফোন আসে, হিমাঙ্করের দেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে। পরিবারকে পুলিশ জানায়, রেললাইনের ধারে উদ্ধার হয়েছে যুবকের দেহ। 

 

পুত্রহারা বাবা বলেন, 'আমার মনে হয় আমরা বাঙালি বলেই এই ঘটনা ঘটছে বিভিন্ন জায়গায়। আমি চাই তদন্ত করা হোক। যারা এই ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের উপযুক্ত শাস্তি হোক। আমার  ছেলেও এই কথা বলে গিয়েছে। আমি চাই সরকার এর তদন্ত করে উপযুক্ত শাস্তি হোক।' 

 

এর আগে অভিযোগ ওঠে, সিঙ্গুরের বাসিন্দা এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশে। শেখ সইদুল্লা নামে ওই ব্যক্তি হুগলি জেলার সিঙ্গুরের দেওয়ানভেড়ি গ্রামের বাসিন্দা। কাজের সূত্রে তিনি বিজেপি শাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশে থাকতেন। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু গত ১৪ জানুয়ারি উত্তরপ্রদেশে ঘর থেকে ওই ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। 

অন্যদিকে, পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে শুধুমাত্র বাংলায় ভাষায় কথা বলার অপরাধে ঝাড়খন্ডে 'খুন' মুর্শিদাবাদের এক যুবক, অভিযোগ তেমনটাই। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় গোটা জেলা জুড়ে। মৃত যুবকের নাম আলাউদ্দিন শেখ (৩০)। তাঁর বাড়ি বেলডাঙা থানার অন্তর্গত সুজাপুর-তাতলাপাড়া গ্রামে। জানা গিয়েছে, ওই যুবক ঝাড়খণ্ডে কর্মরত ছিলেন। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা হওয়া এবং বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে ঝাড়খণ্ডে ফেরিওলার কাজে কর্মরত যুবককে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনায় উত্তাল হয় এলাকা। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির নির্দেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বেলডাঙার মৃত পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ও প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান।