মিল্টন সেন: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিঙ্গুরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভার পর এবার সিঙ্গুরে সমাবেশ করতে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর এই সভা কার্যত ‘মিনি ব্রিগেড’-এর রূপ নেবে। গত ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে টাটা কারখানার মাঠে জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সভায় ব্যাপক ভিড় হলেও, সিঙ্গুর ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে সরব হয় তৃণমূল। সেই প্রেক্ষিতেই দশ দিনের মাথায় সিঙ্গুরের ইন্দ্রখালিতে মুখ্যমন্ত্রীর সমাবেশকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে শাসক দল।
জানা গিয়েছে, সিঙ্গুরের রতনপুরে সরকারি প্রকল্পের সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠান ও জনসভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সভার প্রস্তুতি নিয়ে সোমবার সিঙ্গুরের লোহাপট্টিতে একটি প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে হুগলির দুই সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। সিঙ্গুরের বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে যেভাবে আমাদের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি ও নেতা অভিষেক ব্যানার্জিকে নাম না করে অপদস্থ করেছেন, তার জবাব সিঙ্গুরের মানুষ, হুগলি জেলা ও গোটা বাংলা দেবে। সেই কারণেই আমরা আলাদা করে প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই সভা মিনি ব্রিগেডের রূপ নেবে।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘প্রস্তুতি বৈঠকে হুগলি জেলার সমস্ত স্তরের নেতাদের উপস্থিতি দেখে বোঝাই যাচ্ছে, সবাই ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত। এই সভা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে। নরেন্দ্র মোদি সিঙ্গুরের মানুষকে যা দিতে পারেননি, তার থেকে হাজার গুণ বেশি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী করবেন।’
শিল্প প্রসঙ্গে বেচারাম মান্না বলেন, ‘রাজ্যজুড়ে প্রায় ১৬০০ এবং হুগলি জেলায় ৩০০-র বেশি ছোট, মাঝারি ও বড় শিল্প গড়ে উঠেছে। বিজেপি সেগুলো দেখতে পায় না। তাদের চোখে সমস্যা আছে বলেই এসব উন্নয়ন তাদের নজরে পড়ে না। আরও শিল্প আনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী নিরন্তর চেষ্টা করছেন।’
এসআইআর ইস্যুতে বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘পিছনের দরজা দিয়ে বিজেপি যেভাবে বাংলায় ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে, মানুষ তার যোগ্য জবাব দেবে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের জন্য সিপিএম যেভাবে হিরো থেকে জিরো হয়েছিল, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অবস্থাও তেমনই হবে। সুন্দরবনে যদি বিজেপির কোনও সংখ্যা থাকে, সেটুকুই তারা পাবে।’
প্রধানমন্ত্রীর সভার পাল্টা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর এই সমাবেশকে ঘিরে এখন তৃণমূল শিবিরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও প্রস্তুতির ছবি স্পষ্ট হুগলি জেলাজুড়ে।
