আজকাল ওয়েবডেস্ক: মমতার হাত ছেড়েছেন দীর্ঘদিনের সঙ্গে কাকলি।  কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন তাঁর ছেলে, বৈদ্যনাথের একটি পোস্ট। তারপরেই দেখা যায়, বৈদ্যনাথ একের পর এক পোস্ট করেছেন নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায়। কখনও তিনি লিখেছেন, তাঁর মা, অর্থাৎ কাকলি ঘোষ দস্তিদার  মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে কোনও বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। লিখেছেন- 'আমার মা Mamata Banerjee-এর সঙ্গে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা করেননি।
আমার মা ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় চল্লিশ বছর ধরে চেনেন।২০০১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ৬০টি আসন পেয়েও ক্ষমতায় আসতে পারেনি। ২০০৬ সালে দলটি মাত্র ২৯টি আসন লাভ করে। আর ২০০৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র একটি আসন পেয়েছিল। সেই দুঃসময়েও আমার মা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে অটল ছিলেন।'

 

কখনও জানিয়েছেন, তাঁর  ভোটে লড়ার কোনও ইচ্ছে ছিল না। লিখেছেন, 'আমার বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচন করার কোনো ইচ্ছা বা আগ্রহ ছিল না। তবুও Mamata Banerjee, Mahua Moitra, Saugata Roy এবং Kalyan Banerjee অকারণে আমাকে এই বিতর্কে জড়িয়ে বলেন যে, আমার মা নাকি ছেলের টিকিটের জন্য অনুরোধ করছিলেন। পরে Kalyan Banerjee আমার মাকে অত্যন্ত অশোভন ভাষায় আক্রমণ করেন।
আমার মা কখনোই স্বেচ্ছায় দল ছাড়েননি এবং তিনি কোনো বিশ্বাসঘাতকতাও করেননি। আমার বিশ্বাস, সব্যসাচী দত্তের কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার দেওয়া ভুল তথ্যের কারণে Mamata Banerjee-এর সঙ্গে আমার মায়ের ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল।
সত্যিটা মানুষের জানা উচিত।'

এসবের মাঝেই বৈদ্যনাথ, একটি পোস্টে সিঙ্গুর আন্দোলনের সময়ের কথা উল্লেখ করে, মমতা ব্যানার্জির গুরুতর পরিস্থিতি এবং সেই সময়ে তাঁর বাবা কীভাবে মমতা ব্যানার্জির পাশে থেকেছিলেন, তা উল্লেখ করেছেন। বৈদ্যনাথ লিখেছেন-'কদম শেষ হয়ে গেছি।২০০৬ সালের সিঙ্গুর আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জে দিদিকে নৃশংসভাবে মারা হয়েছিল। রাতে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, হার্ট রেট নেমে যায় ৩০, কখনও ২০-এ। লাঠির আঘাতে তাঁর প্রায় হার্ট অ্যাটাক ও কিডনি ফেলিওর হয়ে যাওয়ার অবস্থা। চিকিৎসার ভাষায় এটাকে বলে ব্লাস্ট লাং-এর মতো অবস্থা। গুরুতর আঘাতে মাসল ভেঙে মায়োগ্লোবিন রক্তে মিশে কিডনি বন্ধ করে দেয়, হার্টের নোডে আঘাত করে ব্র্যাডিকার্ডিয়া ঘটায়।
সিঙ্গুরের সেই রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। রাত দুটোয় বাবা ডা. সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার দিদিকে বেলভিউ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে আর কোনো ডাক্তার ছিল না। কেউ তাঁর ফোন ধরেনি। 
বাবা একাই জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন। সারা রাত ধরে বাবা ডা. সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার, মা ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদার আর বেলভিউয়ের মেডিকেল অফিসার জেগে দিদির জীবন বাঁচানোর লড়াই করেছিলেন। সকালে দিদি বিপদমুক্ত হন।
 পরের দিন ডা. রবিন চক্রবর্তী (কার্ডিওলজিস্ট), ডা. রাজা নন্দী (ইন্টারনাল মেডিসিন) ও ডা. বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত (ট্রমা অ্যান্ড অর্থোপেডিক) চিকিৎসায় যোগ দেন।যখন কেউ ফোন পর্যন্ত ধরেনি, তখন আমার বাবা-মা — ডা. সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার ও ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদার — দিদির জীবন বাঁচিয়েছিলেন।'

শেষে লিখেছেন- 'আজ সেই একই দিদির দলের অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস আইটি সেল আমার মাকে নোংরা, অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করছে। পূজা মৈত্র, দেবাংশু ভট্টাচার্য সহ তৃণমূলের সমর্থকরা এই কাজ করছেন।যে বাবা দিদির জীবন বাঁচিয়েছিলেন, তাঁর স্ত্রীকে আপনারা এভাবে অপমান করছেন? লজ্জা করুন। অন্তত একটু কৃতজ্ঞতাবোধ দেখান। হ্যাভ সাম শেম। হ্যাভ সাম সেন্স অফ বেসিক গ্র্যাটিটিউড।'