আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয়রা। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে রাগে ফুঁসছেন তাঁরা।
উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ ব্লকের ২৫২ ও ২৫৩ নম্বর, দু'টো বুথে মিলে ৬৫৫ জনের নাম বাদ গেছে ভোটার তালিকা থেকে। এই দু'টো বুথ মিলিয়ে মোট ভোটারের সংখ্যা ১৮০০ জনের উপরে। এই দু'টো বুথের ভোটাররা বহুবার স্থানীয় বিএলও, ইআরও-সহ হাসনাবাদ বিডিও অফিসে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু কোনওরকম সুনির্দিষ্ট তথ্য পাননি। কী করে তাঁদের এই সমস্যা থেকে সমাধান হবে, সেই নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন এলাকার মানুষ।
কোনও দপ্তর থেকে সুনির্দিষ্ট উত্তর না পেয়ে অবশেষে তাঁরা রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। দুপুর থেকে টানা দু'ঘণ্টার উপরে পথ অবরোধ চলছে। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তারপরে বিক্ষোভকারীরা পথ অবরোধ তুলে দেন। এর জেরে যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি, নির্বাচন কমিশনের এই খামখেয়ালিপনা বন্ধ করতে হবে এবং যাঁদের নাম ইচ্ছাকৃত বাদ দিয়েছে, তাঁদের নাম অবিলম্বে ভোটার তালিকায় তুলতে হবে। ঘটনাস্থলে রয়েছে হাসনাবাদ থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।
২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর প্রায় ৬০ লক্ষের নাম বিবেচনাধীন ছিল। এই নথি যাচাইয়ের দায়িত্বে ছিলেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। সোমবার মধ্যরাতে এসআইআরের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হয়। সেই তালিকা প্রকাশের পরেই কত লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। কতজনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তা নিয়েও ধোঁয়াশা ছিল।
গত বুধবার নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৬০ লক্ষের মধ্যে ৩২ লক্ষের নথি যাচাই হয়েছে। তার মধ্যে ৪০ শতাংশ নাম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। প্রায় ১৩ লক্ষ বাদ বাদ গিয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। যাঁদের এই বাদ নিয়ে আপত্তি রয়েছে তাঁরা অ্যাপালেটন ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের কথা অনুযায়ী, এখনও ট্রাইব্যুনাল গঠন হয়নি। ২৪ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে জেলাভিত্তিক নিয়োগ করা হবে। তার মধ্যে ১৯ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। বাকি এখনও হয়নি। তারপর সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে ট্রাইব্যুনাল গঠন হবে। কমিশন আরও জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহ থেকে প্রতি শুক্রবার একটি করে তালিকা প্রকাশ করা হবে।















