আজকাল ওয়েবডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে ২৬-এর বিধানসভার ভোটপর্ব এখনও অতীত। তবে বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বাংলার মানুষ। কিন্তু ঝাড়গ্রামের ঝাল মুড়ির ঝাল এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিননি অনেকেই। এ বারের ভোটের প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঝাড়গ্রামে গিয়ে ঝালমুড়ি খান। আর এই ঝালমুড়ি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পরিবেশন করে রাতারাতি পরিচিত হয়ে ওঠেন বিক্রেতা বিক্রম সাউ। তবে সেখানেই শেষ নয়। পশ্চিমবঙ্গে ভোট পর্ব শেষ হয়ে পালাবদলের পরে বাংলায় শান্তি ফিরলেও, বিক্রমের জীবনে শান্তি নেই। ঝালমুড়ি খাওয়ানোর ফলস্বরূপ এবার মিলল প্রাণনাশের হুমকি। আর এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে।
স্থানীউ সূত্রে খবর, বুধবার ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রমকে ফোন করা হয়েছে +৯২ কোড নাম্বার যুক্ত নম্বর থেকে। অর্থাৎ সেটি পাকিস্তানের কোনও ফোন নম্বর। এ কথা পুলিশের কাছে ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন বিক্রম। শুরু হয়েছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত।
বিক্রম সাউ জানান, তাঁর মোবাইলে একটি হুমকির বার্তা আসে। যে নম্বর থেকে মেসেজটি পাঠানো হয়েছে, তার কোড ছিল +৯২। যা পাকিস্তানের কোড নম্বর।
বিক্রম বলেন, "আমাকে বলা হয়েছে, আমার দোকান উড়িয়ে দেওয়া হবে।” ঘটনার খবর পেয়ে ঝাড়গ্রাম পুলিশ বিক্রম সাউয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বৃহস্পতিবার একটি জেনারেল ডায়েরি (জিডি)-ও দায়ের করা হয়েছে।
ঝাড়গ্রামের পুলিশ শীর্ষ আধিকারিক জানান, গত বুধবার বিক্রমের মোবাইলে একটি হুমকিমূলক বার্তা আসে। পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে খবর পেয়ে বিক্রেতা বিক্রম সাউয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তদন্ত চলছে জোর কদমে। যেখান থেকে ফোন এসেছে সেটার প্রথম কোড নম্বর দেখা যাচ্ছে +৯২, যা পাকিস্তানের সাথে যোগ রয়েছে। তবে এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ, আজকের নেট দুনিয়ায় মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য অনেক কিছুই করা সম্ভব। তাই তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে বিক্রেতা বিক্রমের বয়ানে বৃহস্পতিবার একটি জেনারেল ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় ঝাড়গ্রামে হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে রাস্তার ধারের ছোট দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সময় বিক্রম সাউয়ের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। স্থানীয় মহিলা ও শিশুদের সঙ্গেও হাসিমুখে আলাপচারিতায় দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। ঝালমুড়ির দাম হিসেবে ১০ টাকা দিতে গেলে প্রথমে তা নিতে চায়নি বিক্রম। পরবর্তীতে ১০ টাকার বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রীকে ঝালমুড়ি খাওয়ান বিক্রম। মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরপর থেকেই বিক্রম সাউ পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। এর পর ভোট ও ভোট পরবর্তী বিজেপির বিভিন্ন সভা, মিছিল ও বিজয় উদযাপনে ঝালমুড়ি বিতরণ করতে দেখা যায় দলের নেতাকর্মীদের। তবে ভোটের রাজনীতিতে বিরতি এবং পালাবদলে বাংলায় শান্তি প্রতিষ্ঠা হলেও ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রমের জীবনে শান্তির বদলে মিলছে পাকিস্তানি জঙ্গি হুমকি।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হুমকি শুধু ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে নয়, ঘুরপথে প্রধানমন্ত্রীকে ও বাংলার পালাবদলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হুমকি ছুঁড়ে দেওয়া।
















