আজকাল ওয়েবডেস্ক: গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে রাজ্যে হিটস্ট্রোকের পরিস্থিতির মোকাবিলায় বড় সিদ্ধান্ত নিল স্বাস্থ্য দপ্তর। তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এবং গরমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় রাজ্যের সমস্ত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে হিটস্ট্রোকের মোকাবিলায় অবিলম্বে জরুরি ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত সমস্ত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে হিটস্ট্রোকের মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালে তাপজনিত অসুস্থতার রোগীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ও স্পষ্টভাবে চিহ্নিত কক্ষ রাখতে হবে। সেই কক্ষে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল ও শীতলীকরণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
প্রয়োজনে এয়ার কন্ডিশনার, এয়ার কুলার বা উচ্চগতির ফ্যান ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে কমপক্ষে দুটি বেড হিট-স্ট্রোক বা তাপজনিত অসুস্থতার রোগীদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে।
এই বেডগুলি ঠান্ডা ও সহজে পৌঁছানো যায় এমন জায়গায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে হাসপাতালগুলিকে আইভি ফ্লুইড (Normal Saline, 25% D, Ringer Lactate), ওআরএস, বরফ বা আইস প্যাক, ঠান্ডা জল, ভেজা তোয়ালে ও স্পঞ্জিং সামগ্রী, থার্মোমিটার, গ্লুকোমিটার ও টেস্টিং স্ট্রিপ, ইমারশন কুলিংয়ের জন্য জলরোধী জিপারযুক্ত বডি ব্যাগ, অক্সিজেন, জরুরি ওষুধ (লোরাজেপাম, ডায়াজেপাম, অ্যাড্রেনালিন, ডোপামিন, ডোবিউটামিন)।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হিট-স্ট্রোক ইউনিটে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখতে হবে। রোগীর শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমাতে ইভাপোরেটিভ কুলিং পদ্ধতি ব্যবহার করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মেডিক্যাল অফিসার, নার্সিং স্টাফ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ও প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। যাতে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ করে চিকিৎসা শুরু করা যায়।
হিটস্ট্রোকে অসুস্থ হলে রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর দৈনিক রিপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট রিপোর্টিং প্ল্যাটফর্মে এই তথ্য পাঠাতে হবে।
স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, নির্দেশ বাস্তবায়নের পর সংশ্লিষ্ট ডেপুটি CMOH-II-কে রিপোর্ট পাঠাতে হবে। কলকাতার ক্ষেত্রে রিপোর্ট পাঠাতে হবে npcchh.wb@gmail.com ইমেলে।
পাশাপাশি, নির্দেশ বাস্তবায়নের প্রমাণ হিসেবে ছবি সংযুক্ত করতে বলা হয়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে এই নির্দেশকে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রস্তুতি বাড়ানোর বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন স্বাস্থ্য মহলের একাংশ।
















