আজকাল ওয়েবডেস্ক: লালগোলা থানায় একটি মাদক পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি নোটিস পেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের জামাই রাইহান আলি। 

সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই 'সক্রিয়ভাবে' তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দিতে চলেছেন হুমায়ুন জামাতা রাইহান। 

এই জল্পনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন খোদ রাইহান নিজে। মঙ্গলবার আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলতে গিয়ে রাইহান বলেন," আমি আগেও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলাম , এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই রয়েছি। তবে অনেকেই হয়ত আমাকে সক্রিয়ভাবে মাঠে ময়দানে নেমে রাজনীতি করতে দেখেননি।"

তিনি জানিয়েছেন,"আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগেই আমাকে সক্রিয়ভাবে তৃণমূলের হয়ে রাজনীতি করতে দেখা যাবে।"

তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব সূত্রে খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জেলা বা রাজ্যস্তরের কোনও বড় নেতার হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা নিজের হাতে তুলে নিতে চলেছেন রাইহান।

তৃণমূল কংগ্রেস দলে যোগ দিলে পরে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে রাইহানের কাছে রাজ্যের বর্তমান শাসক দল ,তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে কোনও একটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়ার দরজাও খুলে যেতে পারে বলে সূত্রের খবর। 

রাইহান জানিয়েছেন," আমি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলে আমার বাবা  শরিফুল ইসলামও আমার সঙ্গে থাকবেন। সেক্ষেত্রে তিনিও তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেবেন।"
 
প্রায় ১০ বছর আগে হুমায়ুন কন্যা নাজমা সুলতানার সঙ্গে বিয়ে হয়েছে রাইহান আলির। বর্তমানে হুমায়ুন কন্যা লালগোলার নলডহরী গ্রামে নিজের শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। হুমায়ুন জামাতা রাইহান এবং নাজমার শশুর, শরিফুল ইসলামের লালগোলায় ইটভাটা সহ একাধিক ব্যবসা রয়েছে।

সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে হুমায়ুন কন্যার শ্বশুর, শরিফুল ইসলাম মাদক পাচারের টাকায় বেআইনিভাবে লালগোলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি করেছেন।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ইতিমধ্যেই লালগোলা থানার পুলিশ হুমায়ুন কন্যার শ্বশুরবাড়ির প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ১১টির বেশি সম্পত্তি 'ফ্রিজ' করেছে। এই সম্পত্তিগুলির মধ্যে রাইহানেরও একাধিক সম্পত্তিও রয়েছে। 
 
জেলা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান,  গত ৮ ফেব্রুয়ারি লালগোলা থানায় দায়ের হওয়া একটি মাদক পাচারের মামলার তদন্ত নেমে পুলিশ জানতে পারে হুমায়ুন জামাতা রাইহান আলি মাদক পাচারের ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন।

সেই মামলায় রাইহানকে ২৮  ফেব্রুয়ারি লালগোলা থানায় তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও সূত্রের খবর সেদিন  'বিশেষ কারণে' রাইহান হাজিরা দিতে পারেননি। 

রাইহান যদিও বলেন, 'তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এনডিপিএস মামলার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসে 'সক্রিয়ভাবে' যোগ দেওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই।'

তিনি বলেন,"আমি মন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভালোবাসি এবং মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জির নেতৃত্বে যেভাবে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস উন্নয়নের কাজ করে চলেছে  তাতে আমি আকৃষ্ট। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলার সমস্ত আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা যাতে জয়ী হন সেই বিষয়ে আমি সক্রিয়ভাবে  লড়াই করব।"
 
তবে গোটা বিষয়টি নিয়ে এখনও হুমায়ুন কবীর বা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্য সংবাদ মাধ্যমে মুখ খুলতে রাজি হননি। হুমায়ুন কবীরের পরিবারের এক সদস্য নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, "রাইহানকে আমরা কখনই সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করতে দেখিনি। এই মুহূর্তে আমরা আর কিছু বলব না।"

তবে হুমায়ুনের পরিবারের সদস্যদের আশঙ্কা, সক্রিয়ভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দিলে রাইহান জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে  বিভিন্ন বিষয়ে  মুখ খুলতে পারেন। 

তৃণমূল কংগ্রেসের লালগোলার বিধায়ক মহম্মদ আলি বলেন,"তৃণমূল কংগ্রেস করা মানে সকলকে যে মাঠে ময়দানে সক্রিয়ভাবে নেমে রাজনীতি করতে হবে এমন নয়।  অনেকেই পেছনে থেকে রাজনীতি করেন।"
 
তিনি বলেন," হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনীতিতে একটি পরিচিত মুখ। তিনি দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেস দলের সঙ্গে ছিলেন। সুতরাং ধরেই নেওয়া যায় হুমায়ুন কবীরের পরিবারের বাকি সদস্যরাও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই ছিলেন। দল বিরোধী কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে হুমায়ুন কবীরকে তৃণমূল কংগ্রেস সাসপেন্ড করেছে। কিন্তু তাঁর পরিবারের কোনও  সদস্যকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড করা হয়নি। তাই হুমায়ুন জামাতা রাইহান যখন দাবি করছেন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে ছিলেন তাহলে আমরা ধরেই নিতে পারি তাঁর অন্য কোনও  রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না।"
 
তৃণমূল বিধায়ক জানান,"রাইহানকে আমরা কখনও লালগোলার মাটিতে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করতে দেখিনি। তবে  তিনি যদি তৃণমূলকে শক্তিশালী করার জন্য বিধানসভা ভোটের আগে আমাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে চান তাহলে তাঁকে দলে স্বাগত জানাচ্ছি।"