আজকাল ওয়েবডেস্ক: একজন দৃষ্টিহীন আর একজন খোঁড়া মানুষের বন্ধুত্বের গল্প আমরা অনেকেই শুনেছি। গল্পের সেই দুই বন্ধু, দু’জনেই ছিলেন ভিক্ষুক। পেশাগত কারণে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে যখন জঙ্গলে আগুন লেগেছিল সমস্ত প্রতিযোগিতা ভুলে তাদের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বন্ধুত্বে পরিণত হয়। খোঁড়া ব্যক্তি অন্ধ ব্যক্তির কাঁধে উঠে অন্ধ ব্যক্তি খোঁড়ার চোখে দেখে হাঁটতে থাকে। আগুন থেকে প্রাণ বাঁচায় দু’জনেই।

আর ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে বাস্তবের রাহুল ও গৌড়ের বন্ধুত্ব নিমেষেই শেষ হয়ে গেল একটি পথ দুর্ঘটনায়। সিমলাগড় জি টি রোডে একটি বেপরোয়া চার চাকার গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে রাহুল ভুঁইয়া ও গৌড় দাসের। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় বছর ৩৫-এর রাহুল ভুঁইয়ার বাড়ি শিমলাগড়। তিনি চোখে দেখতে পান না এবং মগড়ার বাসিন্দা বছর চল্লিশের গৌড় দাসের বাঁ পা নেই। তাঁরা দুজনেই শিমলাগড় ১৯ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় ভিক্ষা করতেন।

সোমবার শিমলাগড় বাজারের কাছে দু’জনে একসঙ্গে জিটি রোড পার হতে গেলে পান্ডুয়ার দিক থেকে একটি বেপরোয়া পিকআপ গাড়ি দ্রুত গতিতে গিয়ে তাঁদের ধাক্কা মেরে চম্পট দেয়। রাস্তার অদূরে ছিটকে পড়েন দু’জনেই। স্থানীয়রা তাঁদের পান্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক জানিয়ে দেন মৃত্যু হয়েছে দু’জনেরই। পান্ডুয়া থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার দুপুরে মৃতদেহ দু’টি চুঁচুড়া সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ বিষয় মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে পান্ডুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘাতক গাড়িটির খোঁজ করছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত হাজরা নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দু’জনেই ভিক্ষা করতেন। তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল। বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় দু’জনেরই প্রাণ চলে যায়। দৃষ্টিহীন রাহুলের স্ত্রীও চোখে দেখেন না। তিনি যদি কোনও আর্থিক সাহায্য পান তাহলে ভাল হয়।