বিভাস ভট্টাচার্য: হাওড়া পিলখানায় প্রকাশ্য দিবালোকে প্রোমোটার খুনের ঘটনায় সাফল্য পেয়েছে হাওড়া সিটি পুলিশ। এই মামলার তদন্তের ভার সিআইডিকে দেওয়া হলেও দুই মূল অভিযুক্ত শেষপর্যন্ত ধরা পড়ে সিটি পুলিশের হাতেই। দিল্লির জামা মসজিদ এলাকায় তাদের গোপন ডেরা থেকে সিটি পুলিশের একটি বিশেষ দল দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। 

কিন্তু কীভাবে এল এই সাফল্য? খুনের পর এরা কীভাবে গা এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেয় ভিন রাজ্যে? এবিষয়ে হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার আকাশ মাগারিয়া জানিয়েছেন, তদন্তের শুরুতে পুলিশ ঘটনাস্থল ও সংলগ্ন এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অভিযুক্তরা অপরাধ করার পর একটি ট্যাক্সি ভাড়া করে সরাসরি বিহার শরীফের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তারা সেখানে একজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল।

এই ঘটনার কিনারা করতে পুলিশ আগেই মোহাম্মদ বিলাল ওরফে রিংকু, মোহাম্মদ ওয়াকিল ওরফে মুন্না এবং দিলদার হোসেন এই তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল। এরপর গোটা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে অভিযুক্তরা ট্যাক্সি করে চম্পট দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী পুলিশ বুঝতে পারে এরা বিহারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। সেইমতো সোর্স লাগিয়ে পুলিশ পৌঁছে যায় বিহার শরীফে তাদের গোপন ডেরায়। ধরা হয় তাদের আশ্রয়দাতাকে। কিন্তু দুই অভিযুক্ত হারুন খান এবং রাফাকাত হোসেন ওরফে রোহিত পালিয়ে যায়। 

ইতিমধ্যেই ধৃতদের জেরা শুরু করে পুলিশ। এদিকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে অভিযুক্তরা বারবার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে প্রথমে বিহার শরীফ থেকে অভিযুক্ত হারুন এবং রোহিত ট্রেন ধরে পাটনা পৌঁছয়। পাটনা থেকে তারা ট্রেনে মুঘলসরাই হয়ে দিল্লির উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়।  ইতিমধ্যেই ধরা পড়ে যাওয়া অভিযুক্তদের শাগরেদরা পুলিশকে জানায় এরা জামা মসজিদ এলাকায় থাকতে পারে। সেইমতো পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় নজরদারি চালাতে শুরু করে। অবশেষে সাফল্য মেলে। পুলিশ তাদের গতিপথ ও সিসিটিভি ফুটেজ অনুসরণ করে  দু'জনকে গ্রেপ্তার করে।

আকাশ মাগারিয়া জানান, "ধরা পড়ার ভয়ে এরা কেউই মোবাইল ফোন ব্যবহার করেনি।"